রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শরীরে চাইনিজ কুড়ালের ৭টি কোপ-

মতলবে বিএনপি সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:১৩ এম
মতলবে বিএনপি সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে জখম

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) উপজেলার এখলাপুরে গভীর রাতে হামলায় আহত বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন প্রধান।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুরে মধ্যরাতে বিএনপি সাধরণ সম্পাদকের ওপর হামলা করে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহত ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বেপারী (৫২) কে পুলিশ উদ্ধার করে রাতেই দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে।

১৩ এপ্রিল রবিবার রাত আড়াইটার দিকে এখলাছপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনকে তার বাড়ীর সামনে আগ থেকেই ওৎ পেতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জন লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে জখম করে।

এসময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে এসময় মুখোশপড়া অবস্থায় হামলাকারীদের একজনকে স্থানীয়রা আটক করতে সক্ষম হয়। জোরকরে মুখোশ খোলার পর দেখা যায়, আটক হওয়া ব্যাক্তি স্থানীয় পশ্চিম এখলাছপুর গ্রামের গোলাম হোসেন বেপারীর ছেলে আর্শাদ বেপারী।
আহত কবির হোসেনের প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী হেলাল প্রধানের ছেলে রাজিব প্রধানের সাথে কথা হলে সে জানায়, আমি আর আহত কবির প্রধান কাকা একসাথে গজরা এলাকায় বৈশাখী পালাগানের অনুষ্ঠান দেখতে যাই। বাড়ী ফিরতে রাত আড়াইটার মতো বেজে যায়। বাড়ীতে ঢুকার সময় এখলাছপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির কাকার ওপর ১৫/২০জন লোক হামলা করে। এসময় তারা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে কবির কাকারে এলোপাথারি কোপায়। রড আর লাঠি দিয়াও ইচ্ছেমতো পিটায়। আমাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে আমরা হামলাকারীদের প্রত্যেককেই চিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব প্রধান আরো জানায়, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন এই হামলার নেতৃত্ব দেয়। বিল্লাল আর রাসেল মল্লিক কবির কাকারে চাইনিজ কুড়াল দিয়া ইচ্ছামতো কোপায়।
এখলাছপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামলায় আহত কবির হোসেন বেপারীর স্ত্রী বিইটি আক্তার জানায়, আমার স্বামীর ডাক চিৎকারে আমরা গিয়া দেহি বিল্লাল প্রধান আর রাসেল মল্লিকে আমার স্বামীরে মারতাছে। আমার স্বামীরে বাঁচাইতে ওগো হাতে পায়ে ধরলে তহন রাসেল মল্লিক আমার ওপরেও হাত তোলে। বাকি সবাই দৌড়াইয়া পালাইয়া যায়। ওরা আমার স্বামীরে জানে মাইরা ফালাইতে চাইছিল।
কবির হোসেন বেপারীর কয়েকজন প্রতিবেশীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় আমরা এগিয়ে যেতে সাহস পাই নাই। আমলাকারীরা কবির প্রধানকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আর রড ও লাঠিদিয়ে ব্যাপক মারধর করে।
এ বিষয়ে কথা হলে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক জানায়, রাতেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িত একজন আটক আছে। আর হামলার বিষয়টি স্থানীয় একটি বরোপিট (মাছ চাষের পুকির) দখলকে কেন্দ্র করে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।