মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে পুবাইল থানার ওসির বরখাস্তের দাবী

মাও. রইছ উদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে চাঁদপুরে ছাত্রসেনার বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৫০ পিএম
মাও. রইছ উদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে চাঁদপুরে ছাত্রসেনার বিক্ষোভ

ঢাকা গাজীপুর কাপাসিয়া এলাকার মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা রইছ উদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে চাঁদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল ২০২৫) বিকেলে শহরের বায়তুল আমিন মসজিদ চত্বরে (শপথ চত্বর) এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী যুবসেনা ও ইসলামী ছাত্রসেনার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চাঁদপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হজরতুল আল্লামা বজলুল হক নকশবন্দী মোজাদ্দেদী আল-আজহারী, জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মাওলানা খাজা মোহাম্মদ জোবায়ের, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আল-আমিন আজহারী, মাওলানা মাহফুজ উল্লাহ ইউসুফী, ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাড. শেখ ফরিদ মজুমদার, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চাঁদপুর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মাওলানা বাদরুদ্দোজা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলার সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বাবু প্রমুখ। পরিচালনা করেন ছাত্রসেনার জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন জাহিদ।

Model Hospital

বক্তারা বলেন, দেশটা যেনো একটা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। মগেরমুলুকে বাস করছি আমরা। যে যখন যাকে ইচ্ছা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। মাওলানা রইছ উদ্দিন একজন মসজিদের ইমাম এবং খতিব।

তিনি ২৬ এপ্রিল ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের পক্ষে সংহতি সমাবেশে অংশগ্রহণ শেষে নিজ মসজিদ এলাকায় আসলে কিছু দুর্বৃত্ত তাঁকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেধড়ক পিটায়। তাঁকে রক্ষাক্ত জখম করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আর পুলিশ রক্তাক্ত মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে না নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে আসে। থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় মাওলানা রইছ উদ্দিন মারা যান। তাই সংশ্লিষ্ট পুবাইল থানার ওসি কোনোভাবেই এই হত্যার দায় এড়াতে পারে না।

মাওলানা রইছ উদ্দিন যদি দোষীও হয়ে থাকে তাহলেও পুলিশের দায়িত্ব ছিল তাকে আগে চিকিৎসা করানো। কিন্তু পুলিশ সেটা করেনি। সে জন্য আমরা মনে করি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পুবাইল থানার ওসিসহ পুলিশের হাত রয়েছে। তাই আমাদের সুস্পষ্ট দাবি হচ্ছে- অনতিবিলম্বে গাজীপুরের পূবাইল থানার ওসিকে বরখাস্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হোক।

একইসাথে যেসব দুর্বৃত্ত মাওলানা রইছ উদ্দিনকে পিটিয়ে মেরেছে তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হোক। বক্তারা একজন আলেমে দ্বীনকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যা করা হলেও সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি না আসায় হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমন আচরণে সরকারকে ধিক্কার জানানো হয় বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে।

সমাবেশ শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি শহর ঘুরে অঙ্গীকারের সামনে গিয়ে মুনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।