সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ঐতিহাসিক মেহের গোদা খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান

শাহরাস্তিতে আমানিয়া হোটেলসহ একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
শাহরাস্তিতে আমানিয়া হোটেলসহ একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন
শাহরাস্তি পৌর শহরের মেহের গোদা খালের দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (৬ আগস্ট) দিনব্যাপী চলা এ অভিযানে ঠাকুর বাজার ও সাহেববাজার সড়কের  খালপাড়ে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমানিয়া হোটেলের বর্ধিত অংশ ও আমীর হোসেন গাজীর মালিকানাধীন  আরও একটি একতলা ভবনসহ ছোট কয়েকটি টং দোকান।
জানা যায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানার তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা ভূমি অফিস, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুর বাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মেহের গোদা খালের দুই পাড় দখল করে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে আসছিলো স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।
গত বছর জাতীয় গণমাধ্যমে ‘অস্তিত্ব হারাতে বসেছে মেহের গোদা খাল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসন তৎপর হয়। এরপর একাধিকবার অবৈধ দখলদারদের নোটিশ ও মাইকিং করা হলেও তারাসময়ক্ষেপণ করে স্থাপনা না সরানোর অভিযোগ উঠে।
বুধবারের অভিযানে আনোয়ার হোসেন লিটনের মালিকানাধীন ‘আমানিয়া হোটেল’-এর দ্বিতল ভবনের বর্ধিত অংশ এবং আমীর হোসেন গাজীর একটি একতলা ভবন উচ্ছেদ করা হয়। এতে খালের কিছু অংশে পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদার বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। খাল সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পরিবেশ রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, এর পূর্বে চলতি বছরের ২৪ শে মার্চ ১ মাস  ধরে শাহরাস্তি অংশে বহমান  মেহেরগোদা ১০ কিঃমিঃ খালের ২ কিঃ মিঃ এলাকার ময়লা-আবর্জনা-পলিথিন (বর্জ) অপসারন সংস্কার কাজ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন ইউএনও নিগার  সুলতানা। ওই কাজ তিনি প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করেন।
এতে বিশাল আকৃতির ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হয়।তারেই ধারাবাহিকতায় অবশিষ্ট কাজ আজ প্রথম ধাপ সম্পন্ন হল।

শাহরাস্তিতে ইউএনওর অভিযান: চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা!

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
শাহরাস্তিতে ইউএনওর অভিযান: চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা!

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির এক প্র্যাকটিশনারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় অপর একটি মেডিকেল সেন্টারের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে অভিযান চালিয়ে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির একজন প্র্যাকটিশনারকে মূলধারার চিকিৎসাপদ্ধতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় অবস্থিত অ্যাপোলো মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

Model Hospital

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।