সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সুনামগঞ্জে এসওপি বিষয়ক কর্মশালা 

রাজু আহমেদ রমজান, সুনামগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৪৯ পিএম
সুনামগঞ্জে এসওপি বিষয়ক কর্মশালা 
সুনামগঞ্জে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় জেলা মাইগ্রেশন কোঅর্ডিনেশন কমিটি (ডিএমসিসি)-এর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা চলে। শ্রম অভিবাসন খাতে দীর্ঘ তিন দশক ধরে কাজ করে আসা এনজিও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রকল্পটির শিরোনাম হলো: “Strengthening Capacity of the Operational Management of the Ministry of Expatriates’ Welfare and Overseas Employment to Deliver Gender-Responsive Integrated Services for Safe, Regular Migration, and Welfare of Migrants, Returnees, and Communities।” কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল। এছাড়া সহকারী কমিশনার, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক অভিবাসন খাতে কর্মরত সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে জেলা প্রশাসক অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন।
আইওএম-এর প্রতিনিধি প্রকল্পের লক্ষ্য ও কর্মকৌশল তুলে ধরেন। আরএমএমআরইউ’র প্রকল্প সমন্বয়ক কর্মশালার কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় অংশ নেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আইওএম ওয়েলফেয়ার ডেস্ক, স্থানীয় সাংবাদিক, আরএমএমআরইউর কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধি।
এসওপি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো— ডিএমসিসি সদস্যদের দায়িত্ব ও সমন্বয়ের প্রক্রিয়াকে মানসম্মত করা, রেফারাল মেকানিজম ও রেকর্ড-রক্ষণ প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা, মানবপাচার বা প্রবাসে মৃত্যুসহ জরুরি ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা, নারীদের পাশাপাশি প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সেবার অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এসব কার্যক্রমকে সরকারি বাজেট কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা।
কর্মশালা শেষে জানানো হয়, সুনামগঞ্জ জেলায় ডিএমসিসির সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মোট ১০টি সভা এবং দুটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এসব কর্মশালায় খসড়া এসওপি প্রণয়ন, পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।