সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তির সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক : ইউএনও

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪০ পিএম
শাহরাস্তির সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক : ইউএনও

শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন। তিনি বলেন, “শাহরাস্তি উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক। এ অবস্থা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ দমনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রকৃত অর্থে এর সুফল ভোগ করতে, “সন্তোষজনক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সাথে জনসম্পৃক্ততার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

Model Hospital

সভায় অন্যান্য বক্তারা শাহরাস্তি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে যেকোনো উপজেলার তুলনায় “উন্নত ও স্থিতিশীল” বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ভূমির টপ সয়েল রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য এবং মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাসার পিপিএম (বার),মেহেরি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান, শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইনুল ইসলাম,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকলিমা জাহান,উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম,  মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ খান,মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল সাদাফ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান,প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদুর আলম, সমাজসেবা অফিসার মো. আবু ইসহাক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুল আমিন,উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মো. শাহজাহান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মেজবাহ উদ্দিন,  দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিয়া, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আবু হাসান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. শাহজাহান পাটোয়ারী,শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের  সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা,প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।