সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর...

শাহরাস্তিতে মুসল্লিকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪২ পিএম
শাহরাস্তিতে মুসল্লিকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেফতার

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মালরা গ্রামে মোস্তফা মিয়াকে লক্ষ্য করে সংঘটিত রহস্যঘেরা হামলার ঘটনায় মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপে মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মামলাটি দায়ের হয় গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে (এফআইআর নং–১৮, জি.আর. নং–১৬৭/২০২৫, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড)। মামলার বাদী আহত মোস্তফা মিয়া নিজেই, যিনি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মামলার তদন্তে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাসার, পিপিএম (বার)-এর নেতৃত্বে একাধিক দল গঠন করা হয়। পুলিশি তৎপরতার অংশ হিসেবে ২৯ অক্টোবর রাতে চাঁদপুর সদর থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী মিজানুর রহমান (৫১)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মালরা গ্রামের নজির আহাম্মদ ভূইয়ার ছেলে ও আহত মোস্তফা মিয়ার ভাতিজা।

আগের সংবাদটি পড়ুন….

Model Hospital

শাহরাস্তিতে নামাজে যাওয়ার পথে মুসল্লিকে কু পিয়ে জখ ম

এর আগে একই মামলার আরেক আসামী ফুল বানু (৪৫), মিজানুর রহমানের স্ত্রী, ২৮ অক্টোবর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক ও সম্পত্তি বিরোধ থেকেই হামলার সূত্রপাত।

ওসি মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, “আমরা শুরু থেকেই মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। পুলিশ সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।”

অভিযানকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মিজানুর রহমানকে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশ ঘটনাটিকে যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে, তাতে খুব শিগগিরই হামলার মূল কারণ ও নির্দেশদাতাদের পরিচয় প্রকাশ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শাহরাস্তির এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তবে পুলিশি তৎপরতা ও দ্রুত অভিযানের প্রশংসা করছে সাধারণ মানুষ।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।