সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে শালিসি বৈঠকে হামলা, বিএনপি নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪৫ পিএম
শাহরাস্তিতে শালিসি বৈঠকে হামলা, বিএনপি নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সম্পত্তি বিরোধের জেরে শালিসি বৈঠকের সময় এক ব্যক্তির উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহতের পরিবার শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের খিলা পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাহারা পাটোয়ারী বাড়ির মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মোশাররফ হোসেন তার বোন মরিয়ম বেগমের কাছ থেকে ওয়ারিশি সম্পত্তি ক্রয় করেন। দীর্ঘদিনেও সম্পত্তি বুঝে না পাওয়ায় তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার এবং প্রসন্নপুর মোগলবাড়ির বিএনপি নেতা মাঈনুল ইসলাম মোগলের শরণাপন্ন হন। তারা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে মোশাররফের পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেন।

পরে মরিয়ম বেগমের অভিযোগে আহূত শালিসি বৈঠকে দুই পক্ষ উপস্থিত হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুস সাত্তার, মাঈনুল ইসলাম মোগল ও ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সম্পাদক মো. শাহজাহান খান মিলে মোশাররফ হোসেন ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগমের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। হামলায় মোশাররফ হোসেন গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

Model Hospital

আহতের স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, “সম্পত্তির বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে আব্দুস সাত্তার ২০ হাজার ও মাঈনুল ইসলাম ১৫ হাজার টাকা নেয়। পরে তারা আমাদের হয়রানি শুরু করে। আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খানের সঙ্গে যোগসাজশে আরও টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।”

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি বলেন,
“এ বিষয়ে কিছু বলব না,” — এতটুকু বলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি এলাকায় সম্পত্তি বিরোধ কেন্দ্রিক সালিশে উত্তেজনা বাড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের কাছেও পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সম্প্রতি দলীয় নেতাদের সালিশি বৈঠক থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এখন দেখার বিষয়, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগে চাঁদপুর জেলা ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি কী ব্যবস্থা নেয়?

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।