সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৪ পিএম
শাহরাস্তিতে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত
শাহরাস্তিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযোগ্য মর্যাদায়  পালিত হয়েছে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৫। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল “সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কমপ্লেক্স চত্বরে প্রদক্ষিণ শেষে মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা।
তিনি বলেন,সমবায় শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম নয়, এটি সমাজে ঐক্য, সহযোগিতা ও ন্যায্যতার ভিত্তি গড়ে তোলে। টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সমাজে বৈষম্য দূর করে ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উপজেলা  পরিসংখ্যান অফিসার মোঃ খলিলুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে  সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ মোতালেব খান। তিনি বলেন,সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তি শালী হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হয়। প্রতিটি নাগরিকের উচিত সমবায় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাসার, পিপিএম বার, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নোমান হোসেন আখন্দ, সহ-সম্পাদক রুহুল আমিন তরুণ,সমবায় সহকারী পরির্শক কবির হোসাইন, নরিংপুর গ্রীন  গার্ডেনের সাধারন সম্পাদক  আলমগীর হোসেন মিজি,জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির শুরুতে সমবায় সংগীত পরিবেশন করা।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।