চাঁদপুর–৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁদপুর–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পরপর তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা আলহাজ্ব এম. এ. হান্নানের সমর্থকরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই অবরোধে চাঁদপুর–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৫ নভেম্বর ২০২৫) সকাল থেকেই পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়ে টায়ার জ্বালিয়ে ও সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ককটেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে কিছুক্ষণ পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা অবরোধ চলতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা ‘অবৈধ মনোনয়ন মানি না, মানব না’, ‘হান্নান ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘দুর্দিনের হান্নান ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে এম. এ. হান্নানের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই তারা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন, যা টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের দুর্দিনের কর্মীদের মূল্যায়নের কথা বলেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তারা বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাথমিক মনোনয়ন প্রত্যাহার না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
খণ্ড খণ্ড সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জিল হোসেন ও আমির খসরু মোল্লা, পৌর বিএনপির সভাপতি আমাত গাজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, পৌর যুবদলের সভাপতি ইমাম হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক আমিন গাজী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ আরও অনেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম (নজু) পাটোয়ারী, উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক রেবেকা সুলতানা, এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।