রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

বিএনপির সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে এনডিপি চেয়ারম্যানকে জোট প্রার্থী ঘোষণার দাবি

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:২০ পিএম
বিএনপির সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে এনডিপি চেয়ারম্যানকে জোট প্রার্থী ঘোষণার দাবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি নিরসন ও জোটের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সংবাদ সম্মেলন করেছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
বুধবার (৫ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনডিপির কো-চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন, হামলা, মামলা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) বিএনপির পাশে থেকে রাজপথে সংগ্রাম করে এসেছে। আমাদের নেতাকর্মীরা বারবার গ্রেফতার, হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তবুও আমরা কখনো জোট রাজনীতি থেকে সরে আসিনি। এনডিপি সবসময় বিএনপির সুখে-দুঃখে পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে-এটাই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”
বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, “চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অরাজকতা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদকে মনোনয়ন দেওয়ার পর অপর প্রার্থী এম.এ. হান্নানের অনুসারীরা ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ, সম্পত্তি নষ্টসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিক নয়, বরং ফরিদগঞ্জের ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতিকে ধ্বংস করছে।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও সমমনা জোটের ঐক্য টিকিয়ে রাখতে একটি বিকল্প প্রস্তাবও দেন মিজানুর রহমান পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য এনডিপি চেয়ারম্যান ক্বারি মো. আবু তাহের সাহেবকে অথবা সাবেক ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মোজাম্মেল হোসেনকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা যেতে পারে। এতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে এবং এই আসনে নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে তা তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি উৎসর্গ করা যাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনডিপির চাঁদপুর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মাসুদ, জেলা সদস্য আনোয়ার হোসেন, ফরিদগঞ্জ থানা সভাপতি মো. আবু বকরসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।