রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায়

আপনারা ভোট দেবেন মার্কা দেখে, আমাকে দেখে নয় : লায়ন হারুনুর রশিদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৪১ পিএম
আপনারা ভোট দেবেন মার্কা দেখে, আমাকে দেখে নয় : লায়ন হারুনুর রশিদ

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেছেন, “আপনারা ভোট দেবেন মার্কা দেখে, আমাকে দেখে নয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দেখে ভোট দেবেন।”

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন।

লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, “১৯৭৫ সালের বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সিপাহি-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কারামুক্ত করা হয়েছিল।

আমরা গর্বিত, আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক, বেগম খালেদা জিয়ার অনুসারী এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।”

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, “আজ ধানের শীষের প্রতীক দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি দেশের বাইরে থেকেও রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেছেন, অর্জন করেছেন একাধিক ডক্টরেট ডিগ্রি। তিনি সবকিছু গভীরভাবে বোঝেন বলেই আমাকে এই প্রতীক দিয়েছেন। ২০০৮ সালে আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করেছিলেন, আমি আপনাদের সেই সম্মান রেখেছি, ভবিষ্যতেও রাখব। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি, কিন্তু রাতের ভোটের কারণে জয় পাইনি। এবার ইনশাআল্লাহ ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন হলে ধানের শীষ আবারও জয়ী হবে।”

তিনি কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, কুচক্রী মহলের অপপ্রচারে কান দেবেন না। বিএনপির মার্কা—ধানের শীষই আমাদের প্রতীক, আমাদের গৌরব, আমাদের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। আমি ব্যক্তি নয়, মার্কাই সবকিছু। জনগণই আমাদের শক্তি।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ইসমাইল তালুকদার খোকন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, জেলা যুবদলের সদস্য বজলুর রহমান ফজলু, মহিলা দলের নেত্রী পারুল বেগম ও শারমিন করিম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—জেলা যুবদলের সদস্য সোহেল খান, এম.এ. কাইয়ুম, পৌর বিএনপি নেতা বিল্লাল কোম্পানি, মোখলেছুর রহমান ভুট্টো, এম.এম. টুটুল পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপি নেতা ইকবাল পাটওয়ারী, মশিউর রহমান রিপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মানিক পাটওয়ারী, আনোয়ার হোসেন সজিব, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সেলিম মাহমুদ রাঢ়ি, হারুন পাঠান, উপজেলা বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির কাজী, পৌর যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী মৃধা, যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন পাঠান, মনির মাস্টার, হোসেন পাটওয়ারী, পেয়ার আহমেদ তালুকদার, কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের সাবেক যুবদল নেতা আবদুল জলিল, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, ইয়াসিন আখন্দ সুজন, সোহেল রানা, ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম স্বপন, মনির হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে এক বিশাল র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।