সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

দুস্থ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণে অ্যাড. শাহজাহান মিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৪৯ পিএম
দুস্থ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণে অ্যাড. শাহজাহান মিয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচন্ডি ইউনিয়নের উদ্যোগে দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন সদর-হাইমচর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারী জননেতা অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া।

বৃহস্পতিবার এশার নামাযের পর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংগঠনের জনশক্তির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করে। শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করতে আমাদের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শীতের শুরুতেই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা দিনমজুর, প্রবীণ, নারী ও শিশু তাদের জন্য শীত অনেক সময় দুর্ভোগে রূপ নেয়। আমাদের সমাজে যারা সামর্থ্যবান, তাদের উচিত প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো। শীতবস্ত্র বিতরণ আমাদের বার্ষিক সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে আমরা চেষ্টা করি জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কিছু করতে। ভবিষ্যতেও যে কোনো দুর্যোগ বা প্রাকৃতিক কষ্টে আমরা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।”

Model Hospital

তিনি আরও বলেন,সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিকতার ভিত্তিতে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ এক ধরনের সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, যেখানে সম্পদবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে মানুষের উপকারে আসে। আমরা আশা করি এই শীতেও কেউ যেন অবহেলিত বা কষ্টে না থাকে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহর আমির অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান খান, সহ-সেক্রেটারি মোঃ সবুজ খান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদর উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ ইমরান খান, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন সর্দার,যুব বিভাগের ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ শাহজালাল, তরপুরচন্ডি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলমগীর হোসেন বন্ধুকশী প্রমুখ।

শীতার্তদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও জনশক্তিদের হাতে কম্বল তুলেদেন অতিথি বৃন্দ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।