বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরের বিষ্ণুপুরে অবৈধভাবে রাস্তার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:১৫ পিএম
চাঁদপুরের বিষ্ণুপুরে অবৈধভাবে রাস্তার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি রাস্তার পাশের মেহগনি ও রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় প্রায় ২৫টি সরকারি গাছ অবৈধভাবে কর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষ্ণুপুর মোবারকদি ডাকঘর রোড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি গাছ দুই-তিন দিন আগেই কেটে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু গাছ কর্তন করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার ইসহাক মোল্লার ছেলে ইসমাইল মোল্লাসহ একই এলাকার আঃ আজিজ, অলিউল্লাহ প্রধানীয়া, ওসমান প্রধানীয়া, মিলন ও নজরুল প্রধানীয়া সরকারি গাছগুলো কর্তনে নেতৃত্ব দেন এবং তাদের লোকজন দিয়ে গাছ গুলো কেটে নিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, স্থানীয় নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ও নানা অজুহাতে সরকারি রাস্তার পাশের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।
খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, সেই এলাকায় একটি রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে,অভিযুক্তরা জানান, এই কাজের ঠিকাদার নাকি তাদেরকে রাস্তার পাশের এই গাছ গুলো কেটে নেয়ার নির্দেশ দেন।
এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি রাস্তার স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে ভবিষ্যতে যাতায়াতে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হালিমা আক্তার বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অবগত হয়ায় তাৎক্ষনিক তিনি চৌকিদার ও দফাদারদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের সত্যতা পান। এবং গাছ কাটা বন্ধ করে দেন।
আর যারা সেখান থেকে গাছ কর্তন করেছেন তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে  নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।পরবর্তীতে বিষয়টি সম্পর্কে   চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিউল হিকমার সাথে আলাপকালে তিনি জানান,আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি যদি এই গাছ গুলো সরকারি রেকর্ডভুক্ত ভুমির মধ্যে পড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে  আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।