রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তি সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে অবৈধ পাইপ ও বালুর স্থাপনা উচ্ছেদ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে অবৈধ পাইপ ও বালুর স্থাপনা উচ্ছেদ
চাঁদপুর কুমিল্লা  আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি পৌর এলাকার একটি সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
শাহরাস্তি পৌরসভার কালিয়াপাড়া বাজার এলাকায় কুমিল্লা–চাঁদপুর মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি খালের ওপর পাইপ স্থাপন এবং বালু ফেলে নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো অভিযানে অপসারণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে আসছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন। অভিযানে সার্বিক সহায়তা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন বলেন,সরকারি খাল, জলাশয় ও সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখা আমাদের দায়িত্ব। অবৈধ দখলের কারণে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়। এসব বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন,সরকারি খাল ও জলাশয়ের ওপর যেকোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য, শাহরাস্তি থানা পুলিশ এবং শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি পৌরসভার সহ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর  রশীদ, শাহরাস্তি থানার এসআই ফরিদ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা,প্রধান হিসাব সহকারী নজরুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি খাল, জলাশয় ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দখলদারদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।