রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ পিএম
চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। দি প্রিমিয়াম হোমস লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক-এর প্রতিনিধি, অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম।

বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকাল থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা এখান থেকেই। তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষাই পারে বেকারত্ব দূর করতে এবং দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করে দেশের জন্য রেমিট্যান্স আনতে পারে। বেকারত্বের কারণে যুবসমাজ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. এন. জামিউল হিকমা, শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন খান আকাশ, দি প্রিমিয়াম হোমস লিমিটেডের সিইও মো. মাইনুল হাসান দুলন, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান ও একেএম আজাদ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ব্যাচভিত্তিক স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও প্রাণবন্ত আড্ডা। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন সহকারী শিক্ষক মাহবুব। স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষার্থী শাহজাহান সাজু এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক এম. আর. ইসলাম বাবু।

বিকেলে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা পুরো আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করে। দেশবরেণ্য ব্যান্ডদল শিরোনামহীন-এর পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন।
স্মৃতি, ভালোবাসা ও গৌরবময় ইতিহাসের আবহে দিনব্যাপী এ সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফিরে পান তাঁদের প্রিয় ক্যাম্পাসের সোনালি দিনগুলোর স্পর্শ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।