রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মুক্তিযোদ্ধারা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে দিয়েছেন : মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
মুক্তিযোদ্ধারা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে দিয়েছেন : মমিনুল হক এমপি

শাহরাস্তিতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপিত হয়েছে।

২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ স্মৃতিস্তম্ভে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রদর্শনী উপস্থাপন করে।

Model Hospital

বেলা ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহানের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।

তিনি তার বক্তব্য  বলেন, ১৯৭১ সালে অসংখ্য বীর সন্তান তাদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। ২০২৪ সরকার পতনে নতুন প্রজন্মের তাদের এই ত্যাগের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। স্বাধীনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের নতুন প্রজন্মকে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে হবে। তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গড়ে দিয়েছেন। তাই দেশের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এসময় তিনি নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখে আগামীর উন্নত শাহরাস্তি বিনির্মাণে  একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের ইচ্ছে প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে তিনি এই জনপদ দিয়ে বহমান ডাকাতিয়া নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধিতে ড্রেজিং ও খননের  উপর  গুরুত্ব দিয়ে এই জলসম্পদকে কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদনের উপর দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে ও  সামাজিক নিরাপত্তা  বৃদ্ধিতেও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
পরে তিনি সাংসদ  ও ইউএনও সহ  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সম্মাননা স্মারক উপহার প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা আত্মদান করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের স্বপ্নের একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ  বাংলাদেশ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে  অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন—সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের শাহরাস্তি সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বিএসসি, কাজী হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ পাটওয়ারী রুপন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা , বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বিলাস, যুগ্ম আহ্বায়ক আদনান নোমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জি. এবিএম পলাশ, সাবেক সভাপতি জুবায়ের আল নাহিয়ান, সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, সদস্য সচিব মোঃ সোলেমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন এবং শ্রমিক দলের সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি   মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান মুনাজাত পরিচালনা করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আবু ইসহাক, উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ শাহজাহান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামছুল আমীন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল সাদাফ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ নিজাম উদ্দিন সাম্স, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মেজবাহ উদ্দিন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মিয়া, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. আবু হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আশ্রাফ, সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতালেব খান, উপজেলা কার্যালয়ের সিএ জসীম উদ্দিন।

এছাড়া শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দসহ সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাসপাতাল ও এতিমখানায় বিশেষ খাবার বিতরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে শাহরাস্তিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।