রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে জমির টপ সয়েল কাটায় ১ লাখ টাকা জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৯:১১ পিএম
শাহরাস্তিতে জমির টপ সয়েল কাটায় ১ লাখ টাকা জরিমানা
শাহরাস্তি উপজেলায় অবৈধভাবে কৃষি জমির টপ সয়েল উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় স্বেতিনারায়নপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে এক মাটি ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও তা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত দুটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনের ব্যাটারি জব্দ করা হয়।
উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আওতাধীন আয়নাতলী স্বেতিনারায়নপুর এলাকার মাঠে যৌথ বাহিনীর এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। অভিযুক্ত ব্যক্তি মোঃ হেলাল (২৬), পিতা- মোঃ আবুল বাসার, গ্রাম- খেড়িহর, যিনি মাটি ব্যবসায়ী সোহাগের পক্ষে কাজ করছিলেন।
তাকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে হাজীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ফারহান ফারুক জীমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টিম, শাহরাস্তি থানা পুলিশ এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার  বলেন, “কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের কার্যক্রম সহ্য করবো না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা বলেন,অভিযানে আমরা হাতে-নাতে প্রমাণ পেয়েছি যে কৃষি ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অংশ জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট গাড়িচালক ও ভেকু চালকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অঙ্গীকার করেন যে ভবিষ্যতে তারা আর অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে জড়িত থাকবেন না।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।