রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

পুরানবাজার মধুসূদন উবি’র সাবেক প্রধান শিক্ষক সূর্য কুমার নাথের স্মরণসভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৬ এম
পুরানবাজার মধুসূদন উবি’র সাবেক প্রধান শিক্ষক সূর্য কুমার নাথের স্মরণসভা
চাঁদপুর পুরানবাজার মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রয়াত সূর্য কুমার নাথ-এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ জুলাই শনিবার সকালে বিদ্যালয় হল রুমে আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভায় প্রয়াত সূর্য কুমার নাথ-এর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এবং স্বজন-সারথিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রয়াত এই শিক্ষাবিদ ও কৃতি ব্যাক্তিত্বের জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীন সুলতানার সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষচন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, পরিচালক গোপাল চন্দ্র সাহা, পুরানবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষক কল্পনা সরকার, প্রয়াত সূর্য কুমার নাথ-এর জৈষ্ঠ্য সন্তান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার নাথ, ভাগ্নি জামাই বাবুল চন্দ্র দেবনাথ, নাতি এডভোকেট পলাশ মজুমদার।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন খান, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আসলাম তালুকদার, মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক গোপাল চন্দ্র ঘোষ, অভিভাবক সদস্য বিপ্লব কুমার গোপ, সাবেক সদস্য মোঃ জাকির হোসেন খান শিপন, পুরান বাজার ২নং বালক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ধ্রুবরাজ বণিক, সিনিয়র শিক্ষক মাকসুদুল মাওলা, লেডি প্রতিমা মিত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লক্ষণ রায় পিন্টু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পুরানবাজার মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রয়াত সূর্য কুমার নাথ ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তিনি একই সাথে একজন ধর্মপরায়ণ এবং সাংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন। এই বিদ্যালয়ে কর্মজীবনে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর সততা, নিষ্ঠা, কর্মপ্রেরণা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

Model Hospital

বক্তারা আরও বলেন, প্রয়াত সূর্য কুমার স্যার একজন সফল বাবা। তিনি তার দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয়ে “প্রয়াত সূর্য কুমার নাথ বৃত্তি প্রকল্প” চালু রয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর দরিদ্র ও মেধাবী ১০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। যা তাঁর শিক্ষা ও মানবসেবার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বক্তারা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।