শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সে কাল – এই কাল

তারেক রহমান: তৃণমূল রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার গল্প

মো. বিনইয়ামীন প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
তারেক রহমান: তৃণমূল রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার গল্প
পরিবর্তনই জীবন ও জগতের চিরন্তন সত্য। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবকিছুই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। সেই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এসেছে নানা উত্থান-পতন, সংগ্রাম ও নতুন অধ্যায়।
তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে, যখন তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন। পরবর্তীকালে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
২০০৬ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের উদ্যোগ নেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সামরিক সমর্থিত সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর ওপর হত্যাচেষ্টাসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রচণ্ড নির্যাতনের পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। প্রচলিত প্রবাদ আছে—‘রাখে আল্লাহ, মারে কে।’ ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। ২০০৯ সালে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দল পরিচালনা শুরু করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। পরবর্তীকালে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি সুনামের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছেন বলে সমর্থকদের দাবি।
সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির প্রতিফলন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অসম্মানিত করেন।
— লেখকের নিজস্ব মতামত।
লেখক পরিচিতি
সহকারী অধ্যাপক (বাংলা)
মাছিমপুর ফাজিল মাদ্রাসা
মূলপাড়া, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।