মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় স্বামীর ঘর থেকে পালালেন স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া মিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ পিএম
কচুয়ায় স্বামীর ঘর থেকে পালালেন স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া মিম

কচুয়ায় নূরপুর গ্ৰামে পরকীয়া জড়িয়ে স্বামীর ঘর থেকে পালালেন জান্নাতুল মাওয়া মিম।

কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের নেমুয়া বাড়ির শাহ আলমের কন্যা জান্নাতুল মাওয়া মিম পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামীর ঘর ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জান্নাতুল মাওয়া মিম ঝর্ণা বেগম বাদী কচুয়া থানায় নিখোঁজের একটি জিডি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল মাওয়া মিম ওই গ্রামের পাশের বাড়ির মনির হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন হৃদয়ের সাথে দুজনে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে ১১ অক্টোবর ২০২৪ সালে  চাঁদপুর বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক এর কার্যালয়ের  বিবাহর হলফনামা করেন। পরবর্তী দুই পরিবার তাদের এই প্রেমের বিবাহ মেনে নেন। পরবর্তীতে কামাল হোসেন হৃদয় ঘর থেকে অন্য ছেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন জান্নাতুল মাওয়া মিম। পরকীয়া জড়িয়ে ১৮ আগস্ট ২০২৬ সালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ‌। স্বামী কামাল হোসেন হৃদয় ১৯ আগস্ট কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের ঘটনায় ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুইদিন পর জান্নাতুল মাওয়া মিম তার বাপের বাড়িতে চলে আসেন।
পুনরায় আবারো গত কয়েক মাস আগে জান্নাতুল মাওয়া মিম কাউকে না জানিয়ে সকলে অগোচরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় । এই ঘটনায় জান্নাতুল মাওয়া মিমের মা ঝরনা আক্তার কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন।
কামাল হোসেন হৃদয় বলেন, জান্নাতুল মাওয়া মিমকে আমি ভালোবেসে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ২০২৪ সালে ১১ অক্টোবর বিবাহ করি। বিয়ের পর থেকে জান্নাতুল মাওয়া মিম বিভিন্ন ছেলেদের সাথে মোবাইলে কথা বলে আসছে। সেই গত তিন চার মাস আগে আমার ঘর থেকে পালিয়ে গিয়েছে। পুনরায় গত কয়েক মাস আগে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের কার্যালয় চাঁদপুর, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাকের ঘোষনাপত্র ডাক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাকে তালাকপত্র পাঠান।
জান্নাতুল মাওয়া মিম এর মা ঝরনা বেগম জানান, জান্নাতুল মাওয়া মিম গত কয়েকদিন ধরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছে‌। আমি এই ব্যাপারে কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেছি। আমার মেয়ের সন্ধান মেলেনি ও যোগাযোগ করতে পারতেছি না ।
স্থানীয় লোকজন আরো জানান, জান্নাতুল মাওয়া মিম কামাল হোসেন হৃদয় ঘরে থাকা অবস্থায় একাধিক ছেলে সাথে পরকীয়া জড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে কামাল হোসেন হৃদয় ও জান্নাতুল মাওয়া মিম দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশও হয়েছে।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে দেশসেরা চাঁদপুরের ডিসি, সেরা তিন ইউএনও

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৬ এম
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে দেশসেরা চাঁদপুরের ডিসি, সেরা তিন ইউএনও

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে সেরা জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান। একই কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বীকৃতিও পেয়েছেন চাঁদপুরের তিন কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, দ্বিতীয় হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং তৃতীয় শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমের মূল্যায়নে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধনের আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ এ সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় চাঁদপুরের এ অর্জন জেলার প্রশাসনিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সেবার মান উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ, নিয়মিত তদারকি ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয়ের গুরুত্ব এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে।

বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ, বিশেষ উদ্যোগে সাফল্য

Model Hospital

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে অগ্রগতি আনতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও শাহরাস্তি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা।

তাঁরা জানান, গ্রাম পুলিশের সদস্যদের মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে জন্ম ও মৃত্যু-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে যুক্ত কর্মী, টিকাদান কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে। যেসব শিশুর জন্ম নিবন্ধন তখনো হয়নি, তাদের শনাক্ত করে নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কোনো শিশুর জন্ম নিবন্ধন যেন বাদ না পড়ে, সে জন্য বাড়ি বাড়ি যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধন কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তাঁদের ভাষ্য, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।

প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির ওপর জোর

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, আগের মাসে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে চাঁদপুর কিছুটা পিছিয়ে ছিল। পরে কার্যক্রমের গতি বাড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, আগে যেসব জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন আটকে ছিল কিংবা বিভিন্ন কারণে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি, সেগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও টিকাদান কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কেউ যেন নিবন্ধনের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিদিনের কাজের বিবরণ নেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ তথ্যনির্ভর ও সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা থেকেই এ সাফল্য এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

অভিনন্দন জানিয়েছে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ।

এক অভিনন্দন বার্তায় তাঁরা বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় এ অর্জন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, জনবান্ধব উদ্যোগ এবং সেবামুখী কার্যক্রম চাঁদপুরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জেলার নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা পাবেন।

সেবায় সন্তুষ্টির কথা জানালেন স্থানীয়রা

চাঁদপুরের কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা নিয়মিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। কোনো সমস্যা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েও সমাধান পাওয়ার কথা বলেছেন কেউ কেউ।

তবে সেবার এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলেও মনে করেন তাঁরা।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে চাঁদপুরের এ অর্জনকে নাগরিক সেবার উন্নয়নে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও জেলার অন্যান্য সরকারি সেবায় এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।