শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

জুমার নামাজ পড়ে এসে দেখেন বসতঘর পুড়ে ছাই! এক আগুনে নিঃস্ব ৪ পরিবার

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
জুমার নামাজ পড়ে এসে দেখেন বসতঘর পুড়ে ছাই! এক আগুনে নিঃস্ব ৪ পরিবার

এক মুহূর্তের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে চার পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই। ঘরের আসবাবপত্র, জমানো টাকা, পরনের কাপড় ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই কেড়ে নিয়েছে আগুন। চোখের সামনে আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার। এখন নিঃস্ব পরিবারগুলোর সামনে একটাই প্রশ্ন—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন তাঁরা?

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই বাড়ির চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উভারামপুর গ্রামের দক্ষিণ পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে অটোচালক চান মিয়া, সূর্য মিয়া, দিনমজুর মো. স্বপন ও হাবিবের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা মসজিদে ছিলেন। এ সময় আগুনের সূত্রপাত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি তাঁরা। মুহূর্তেই চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁদের শেষ আশ্রয়টুকু।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় লোকজন।

Model Hospital

অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে দিশাহারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। অটোচালক চান মিয়া ও দিনমজুর মো. স্বপন বলেন, ‘আমরা জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখি, আমাদের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, জমানো টাকা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র—কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এক মুহূর্তে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না।’

দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সংসার হারিয়ে তাঁদের এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবারগুলোর দিন কাটছে চরম দুশ্চিন্তায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরের এই আগুনে চারটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, গ্রামটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো কঠিন। তাই দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একই বাড়ির চারটি অসচ্ছল পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। তাদের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সম্বলহীন এই মানুষগুলোর পক্ষে একা একা সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। তাঁদের প্রয়োজন জরুরি আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং নিরাপদ আশ্রয়।

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।