বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের রাজকীয় আয়োজনে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানালেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
চাঁদপুরের রাজকীয় আয়োজনে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানালেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা
ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট আর ফুলে সাজানো গাড়িতে রাজকীয় বিদায়। দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে যাওয়া প্রিয় শিক্ষক মো. শাহনেওয়াজ খানকে এমনই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩১নং মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে মান্দারী ছাত্র-যুব ও প্রবাসী সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, শিক্ষানুরাগী, সুধীজন, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বেগম, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ছায়েদ চৌধুরী এবং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমিলি খান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মান্দারী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা নেছার আহমাদ, মান্দারী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন মোল্লা এবং অনুষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষানুরাগী সিদ্দিকী মহসীন পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাহবুব মোল্লা ও রাবেয়া মুন্নি।
এ সময় বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষক মো. শাহনেওয়াজ খান তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন। তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তিনি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে চিরদিন অধিষ্ঠিত থাকবেন। বক্তারা তাঁর অবসর-পরবর্তী জীবনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও শান্তি কামনা করেন।
উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা বেগম, মান্দারী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম হোসেন মিজি, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী, ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন পাটওয়ারী, লোধেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আব্দুল কাইয়ূম ফারুকী এবং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আকতার হোসেন মিজিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজন, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন হাফেজ মো. সোহেল। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মুন্নি বিদায়ী শিক্ষকের সম্মানে মানপত্র পাঠ করেন। পরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানকে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা সম্মাননা ক্রেস্ট, উপহার প্রদান করা হয়। বিদায়পর্বে ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন। ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানানো হলে শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার স্মৃতি, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
একজন শিক্ষকের আনুষ্ঠানিক কর্মজীবনের অবসান হলেও শিক্ষার্থীদের জীবনে তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও স্মৃতি থেকে যায় দীর্ঘদিন। শাহনেওয়াজ খানের বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা সেই চিরন্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কেরই এক আবেগময় প্রতিচ্ছবি।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।