মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নজরুল-বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চাঁদপুরের ২৫ শিক্ষার্থীর সাফল্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
নজরুল-বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চাঁদপুরের ২৫ শিক্ষার্থীর সাফল্য

নজরুল-বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চাঁদপুরের ২৫ শিক্ষার্থী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত, একক অভিনয়, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অংশ নিয়ে তারা এ কৃতিত্ব অর্জন করেন।

প্রকাশিত ফলাফলে জানা যায়, নজরুলসংগীতে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষ্ণকলি দেবনাথ ও দীপা রায় চৈতী; একক অভিনয়ে মৈত্রী শিশু উদ্যানের স্বস্তিকা শর্মা, আল-আমিন একাডেমি স্কুলের সাহেলা মেহজাবীন ছোঁয়া এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজের মরিয়ম আক্তার প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

এ ছাড়া হামদ-নাত/ইসলামি সংগীতে নওগাঁও রাশেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ফাতেহা আল জাকিয়া, রচনা প্রতিযোগিতায় হাঁসা ফাজিল মাদ্রাসার মো. জিসান এবং নজরুলের কবিতা আবৃত্তিতে রামপুর বাজার দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার মিনহাজুল আরেফিন প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

এছাড়া নজরুলসংগীতে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সানজিদা আলম সাঞ্জু; একক অভিনয়ে মোহাম্মদীয়া কিন্ডারগার্টেনের আরিশা ইসলাম জারিন; একক নৃত্যে হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রিয়া সরকার; রচনা প্রতিযোগিতায় গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের সাবিহা আরেফিন হেলেন দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

Model Hospital

মাদ্রাসা পর্যায়ে ইসলামিক সংগীত/গজলে মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার জারিন আক্তার ও গাউছিয়া হাশেমিয়া সেকান্দার আলী সুন্নিয়া মাদ্রাসার মুহাম্মদ সোহেল; হামদ-নাতে গন্ডামারা এ.বি.এস. ফাজিল মাদ্রাসার মো. আব্দুর রহমান ও কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার মো. জিল্লুর রহমান; রচনায় রাগৈ ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার আরাফা আক্তার এবং উপস্থিত বক্তৃতায় রাজারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার শামিমা আক্তার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

নজরুলসংগীতে হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুকৃতি চক্রবর্তী; একক নৃত্যে কচিকাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পারিজাত সাহা; একক অভিনয়ে আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়াশপিয়া আলম আরিশা; কবিতা আবৃত্তিতে চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মিফতাহুল জান্নাত তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদ্রাসা পর্যায়ে ইসলামিক সংগীত/গজলে ফরাজিকান্দী ওয়েসিয়া কামিল মাদ্রাসার আব্দুল হাদি জিসান; কবিতা আবৃত্তিতে যাদবপুর এম. আর. ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং উপস্থিত বক্তৃতায় কাকৈরতলা গোলাম কিবরিয়া দাখিল মাদ্রাসার আবদুল্লাহ আদিল আহনাফ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

বিভাগীয় পর্যায়ে চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

জেলা কালচারাল অফিসার দিতি সাহা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে যাঁরা প্রথম হয়েছেন, তারা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা এবং নতুন প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁদের প্রত্যাশা, বিভাগীয় পর্যায়ে অর্জিত এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় পর্যায়েও চাঁদপুরের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।