মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় হাটের সরকারি জায়গা ও শেড দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
কচুয়ায় হাটের সরকারি জায়গা ও শেড দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ

হাটের সরকারি জায়গা ও শেড দখল করে দোকান নির্মাণ। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জহির।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৮নং কাদলা ইউনিয়নের রঘুনাপুর বাজারে সরকারি জায়গা ও হাটের শেড দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ইমান হোসেন।

অভিযুক্তরা হলেন, কাদলা ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন বগির মায়ের বাড়ির মৃত নুরুল ইসলাম ভান্ডারীর ছেলে মো. জহির (৩৫) ও তার বড় ভাই জালাল (৪৫)। এর মধ্যে অভিযুক্ত জহির বিগত সরকারের আমলে ৮নং কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে সময়ও বিভিন্ন অপকর্ম চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রঘুনাপুর বাজারের খালের পূর্ব পাড়ে জোরপূর্বক সরকারি জায়গা ও বাজারের শেডের অংশ দখল করে পাকা ও টিনের ঘর নির্মাণ করেন অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে বাদী ইমান হোসেন ও স্বাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জায়গায়  ঘর তোলার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাদী বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। স্বাক্ষীরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাদীকে সুযোগ পেলে খুন করে লাশ গুম করার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দফায় দফায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কারো তোয়াক্কা করেননি। তারা সুযোগ বুঝে পুনরায় সরকারি জায়গা দখল ও বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

Model Hospital

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি হাটের সবজি শেডের ভেতরে কাঠ ও টিন দিয়ে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জহির ও তার ভাই জালাল। হাটের জায়গা এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত মো. জহির হোসেন দাবি করেন, “রেকর্ড ও খতিয়ান অনুযায়ী এই জায়গার মালিক আমি। আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি। তবে জায়গাটা যে ফেরি (ঘেরাও) করা হয়নি, তা আমি স্বীকার করছি। আমি অতিদ্রুত উচ্ছেদের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করব।”

এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় শেডের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।