মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে সরকারি কোনো সম্পত্তি বেদখল থাকতে দেব না’ এমপি মানিক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
চাঁদপুরে সরকারি কোনো সম্পত্তি বেদখল থাকতে দেব না’ এমপি মানিক

চাঁদপুর সদর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সে যত বড় প্রভাবশালীই হোক, কোনো সরকারি সম্পত্তি বেদখল থাকতে দেব না। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যেসব সম্পত্তি বেদখল রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সেগুলো উদ্ধার করতে হবে। সরকারের জায়গা সরকারের কাছেই ফিরে আসবে। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারলে সরকার আপনাদের পুরস্কৃত করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন দীর্ঘদিন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা সৃষ্টি হয়। তাই লার্ভা ধ্বংস করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৭০০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সদর হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইনের মজুদ রয়েছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৫০০ পরিবারের জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভায় ২ হাজার এবং সদর উপজেলায় ১৫০০ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক মানুষ আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাই সহজ ভাষায় তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে তারা ধর্মীয় উপাসনালয়ে উপস্থিত মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন।

মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নদীতে অভিযান পরিচালনা করছেন। মা ইলিশ রক্ষায় তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, জেলেরা যাতে তাদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা শতভাগ পান, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করেছি। আগামী অভিযানগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

ওএমএসের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে বলেন, ওএমএসের চাল বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ঠিকমতো চাল পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদ, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী অ্যাড. মনিরা বেগম চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহাবুব আলম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল হাসান ফয়সাল, চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মীর্জা ওমর ফারুক, কোস্টগার্ডের মো. আবদুস সামাদ প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তপন রায়, সদর উপজেলা পিআইইউ মোহাম্মদ আফতাবুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন সাগর, অ্যাড. শিরিন আক্তার সুপ্তা, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শাহাজাহান কবির খোকা, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে চলমান অভিযান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি দখল ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম প্রশংসনীয়।

তারা আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। মাদক, অবৈধ দখল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।