মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত আশঙ্কায় মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত আশঙ্কায় মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদগঞ্জে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ফোন অপারেটর রবির নেটওয়ার্ক টাওয়ার নির্মাণকাজ বন্ধ ও তা বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামের বেগের বাড়ি এলাকায় এই মানববন্ধন পালিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকার মাঝখানে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হলে তা মানবস্বাস্থ্য, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া টাওয়ার থেকে নির্গত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের পক্ষে মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি টাওয়ারের নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে স্থগিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামের বেগের বাড়ির ইসমাইল বেগের জমিতে সম্প্রতি এই টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এলাকাবাসী শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও কাজের গতি থামেনি। টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে বিটিআরসি (BTRC) নির্ধারিত প্রচলিত বিধিমালা, নিরাপত্তার মানদণ্ড এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাইফুল ইসলাম, মহিউদ্দিন, নুর নবী বেপারি, রাফিয়া বেগম, সানজিদা আক্তার, রাবেয়া বেগম ও আছিয়া আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত স্থানে টাওয়ার নির্মাণকাজ চিরতরে বন্ধের দাবি জানান এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।