বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আবু সাঈদ, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
কচুয়ায় এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরের কচুয়ায়  এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল মূল্যায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬)  উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের পরীক্ষার ফলাফলে ৯টি কলেজের পাশের হার ৩৯. ৯৬, জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত ০৩ জন  ও ১৪ টি মাদ্রাসার ফলাফলের হার ৬৪.১৩, জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত ০৭জন ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়ের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা সমন্বয়ক, শিক্ষা অনুরাগী ও সমাজসেবক আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার।
সভায় বক্তব্য রাখেন আশেক আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান খান, এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, হাসিমপুর ড. মনসুরউদ্দিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, কচুয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইন্সপেক্টর মো. ছগির আহমেদ, কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মেহেদী হাসান, রহিমানগর কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, নুরুল আজাদ কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, পালাখাল রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ইয়ার আহমেদ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নিশ্চিন্তপুর ডি.এস. কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.এস.এম. ফখরুদ্দিন, আশরাফপুর গণিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলী আক্কাছ, পালাখাল ছালেইয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক আনোয়ারী এবং মনোহরপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রতিনিধিরা।
সভায় কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন কলেজ, মাদ্রাসা ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল পর্যালোচনা, শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মানদণ্ড বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথকীকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ ও অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ বর্জ্য থেকে আলাদা করা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ এবং নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি টয়লেট ব্যবহার উপযোগী করা, হাসপাতাল আঙিনার ঘাস ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন ও হকারদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওষুধের সংকট নিরসনে রিকুইজিশন পাঠানো, অকেজো আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন সচল করার উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯০-এর দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫১ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থায়ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও স্যালাইনের বিভিন্ন উপকরণ নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
এদিকে বর্তমান সরকার সম্প্রতি ৫১ শয্যার  হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নতি করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ফায়দুল্লাহ মিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন, পৌর প্রশাসকের প্রতিনিধি ও পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।হাসপাতালে পক্ষে
নার্সিং সুপারভাইজার সুভদ্রা রানী দেবনাথ, স্টোরকিপার ও বহির্বিভাগ ইনচার্জ মো. মোস্তফা, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. ইমাম হোসেন, জরুরি বিভাগ ইনচার্জ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহিন হোসেন,  এবং জুনিয়র মেকানিক আবুল বাসার খান।সভায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।