বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় প্রবাসির দুটি অটোরিকশা দান

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
শাহরাস্তিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় প্রবাসির দুটি অটোরিকশা দান
প্রিয় নেত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা আর অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ওমান প্রবাসী মোহাম্মদ হানিফ মিয়াজী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নিজের অর্থায়নে এলাকার দুই অসহায় ব্যক্তিকে দুটি অটোরিকশা দান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুটি পরিবারের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার উত্তর সেনগাঁও আল মদিনা ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেনগাঁও গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন ও রাসেল এর  হাতে দুটি  অটোরিকশা তুলে দেওয়া হয়। দাতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াজী ওমানের নেজোয়া প্রবাসী। তিনি সেনগাঁও এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিজের উপার্জিত অর্থ থেকেই তিনি এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
অটোরিকশা পেয়ে আবেগাপ্লুত বিল্লাল হোসেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই উপহার তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহে বড় সহায়তা হবে। তাঁর মা-বাবা, সন্তান-সন্ততিসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখন উপার্জনের একটি অবলম্বন তৈরি হলো। তিনি দাতা হানিফ মিয়াজীর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।অন্য অটোচালক রাসেল তার অনুভূতি প্রকাশ করে  বলেন, হানিফ মিয়াজীর দেওয়া অটোরিকশাটি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এটি আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহে অনেক বড় সহায়তা হবে। এখন নিজে উপার্জন করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবে চলার স্বপ্ন দেখছি। তাঁর এই মহানুভবতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
দাতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াজী বলেন, “আমি একজন প্রবাসী। প্রবাসে থাকলেও দেশের মানুষের কথা সবসময় মনে থাকে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নিজের অর্থায়নে দুটি অটোরিকশা অসহায় মানুষের জন্য দান করেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো, তারা যেন নিজেরা উপার্জন করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারেন। সবাই মরহুমা নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হানিফ মিয়াজী বিদেশ থেকে দেশে এলেই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং অসহায় মানুষের মধ্যে সাধ্যমতো দান-খয়রাত করে থাকেন। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় তিনি দুটি অটোরিকশা দানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রবাসের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ থেকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় মানবিক উদ্যোগ। কারণ, সাময়িক সহযোগিতার চেয়ে একজন মানুষের হাতে উপার্জনের উপকরণ তুলে দেওয়া অনেক বেশি অর্থবহ। হানিফ মিয়াজীর এই উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পরোপকারের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথকীকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ ও অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ বর্জ্য থেকে আলাদা করা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ এবং নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি টয়লেট ব্যবহার উপযোগী করা, হাসপাতাল আঙিনার ঘাস ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন ও হকারদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওষুধের সংকট নিরসনে রিকুইজিশন পাঠানো, অকেজো আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন সচল করার উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯০-এর দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫১ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থায়ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও স্যালাইনের বিভিন্ন উপকরণ নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
এদিকে বর্তমান সরকার সম্প্রতি ৫১ শয্যার  হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নতি করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ফায়দুল্লাহ মিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন, পৌর প্রশাসকের প্রতিনিধি ও পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।হাসপাতালে পক্ষে
নার্সিং সুপারভাইজার সুভদ্রা রানী দেবনাথ, স্টোরকিপার ও বহির্বিভাগ ইনচার্জ মো. মোস্তফা, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. ইমাম হোসেন, জরুরি বিভাগ ইনচার্জ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহিন হোসেন,  এবং জুনিয়র মেকানিক আবুল বাসার খান।সভায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।