বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সাংবাদিক জাকির হোসাইন খাঁন চির নিদ্রায় শায়িত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২, ৪:৪১ পিএম
সাংবাদিক জাকির হোসাইন খাঁন চির নিদ্রায় শায়িত
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুর শাহরাস্তি প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি, দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের প্রতিবেদক সাংবাদিক জাকির হোসাইন খাঁন(৫৮) দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৯.৫০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন, ইন্নালিল্লাহি…… রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিক, লিভার সিরোসিস সহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ৩ ছেলে ১ নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের পরিবার ও স্বজনদের  সূত্র জানায়, সাংবাদিক জাকির হোসাইন খাঁন টামটা দক্ষিণ ইউপির টামটা গ্রামের খাসের বাড়ির মরহুম মকরম আলীর পুত্র। তিনি শিক্ষা জীবন শেষ করে স্থানীয় পত্রিকা পরে দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার প্রতিনিধির মাধ্যমে সংবাদকর্মীর কর্মজীবন পাকাপোক্ত করেন। তারপর পত্রিকার পালাবদলে দীর্ঘ একযুগ দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের শাহরাস্তি প্রতিবেদক হিসেবে আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন।
সাংবাদিক জাকির হোসাইন সদা ছিলেন বিনয়ী নম্র-ভদ্র সদালাপী। জানাযায়, এইতো গত ২ বছর পূর্বে শাহরাস্তি উন্নয়ন মেলায় ২৮ রেনডম নিয়ে তার ডায়াবেটিক রোগটি শনাক্ত হয়। তারপরও পত্রিকার নেশা তাকে একটু দমাতে পারেনি। রাত নাই দিন নাই শুধু নিউজ আর নিউজ।  গত দুটি বছর অদৃশ্য করোনাভাইরাস সাংবাদিকতার পেশাটিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল । ওই দুঃসময়টাকে তিনি একটু তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে জীবন বাজি রেখে শাহরাস্তির এক প্রান্থ থেকে অন্যপ্রান্থে ঘুরে বেড়িয়েছেন, সংগ্রহ করেছেন সংবাদ। কোথাও কম্পিউটারে নিউজ টি তৈরি করতে না পারলে, মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে বলতো ভাই আমার সংবাদটুকু একটু লিখে পাঠিয়ে দিয়েন।
পরের দিন ঠিক সকালে এসে আমানিয়া হোটেলে নাস্তা খেয়ে নিজেই পত্রিকা বিলি করে গ্রাহকের সন্তুষ্টি কুড়িয়ে নিতেন।এদিকে বেতন ছাড়া আধপেটা অভাব-অনটনে নিমজ্জিত এই সংবাদকর্মী পথ চলায় প্রায় অভাব অনটন মানুষের মাঝে ফুটিয়ে তুলতেন । তবে সেটির পরিমাণ ছিল একদম সীমিত আপ্যায়নে খুশিতে আটখানা হয়ে যেতেন তিনি। মানুষকে বিপদে ফেলে কিংবা কুট চালাকির মাধ্যমে রুটি রোজগারের চিন্তা তার “ডিকশনারিতে” কোন কালেই ছিলনা। তারপরও পরশ্রীকাতর কিছু কুরুচি সম্পন্ন মানুষের পরোচনায় আইসিটি একটি মামলার ৪ নম্বর আসামির তকমা গায়ে লাগাতে হয় তাকে।
মৃত্যুর পূর্বে ওই মামলাটি শেষ হয়ে গেলেও ওই কষ্ট দেওয়া কুশীলবদের কথা বলে প্রায় ঢেকুর দিতেন তিনি। আজ তিনি নেই ,আর কখনো ফিরে আসবেন না। গণমাধ্যম পত্রিকা, সমাজ ব্যবস্থা পৃথিবী সব রয়ে গেল। তার জীবদ্দশায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ও  মানুষের কষ্টের সংবাদ পত্রিকায় ছাপিয়েছেন তিনি। আজ তার জীবন সায়াহ্নে খালি মানিব্যাগ আর কলমটি ছাড়া বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদেরকে কিছুই দিয়ে যেতে পারেননি বলে তার স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মৃত্যুর রাতে তার পত্রিকার সম্পাদক চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী মহোদয় ফোন করে জাকির হোসাইন খাঁনকে একজন সৎ বিনয়ী ভদ্র নম্র পরিশ্রমী সংবাদকর্মী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সঙ্গে এও বলেছেন জাকির এতটা অসুস্থ আমরা কেউ টেরও পেলাম না। তার জন্য কিছুই করতে না পারার বেদনার কথা শেয়ার করেছেন তিনি।  তারপরও সাংবাদিক নেতা  ইকবাল ভাই তার দাফন কাফনের খরচ থেকে শুরু করে আগামী দিনগুলিতে পরিবারের পাশে দাঁড়াবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে এই প্রবীণ  সাংবাদিক জাকিরের মৃত্যুর সংবাদ চাউর হতেই স্থানীয় সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এবং শাহরাস্তি প্রেসক্লাব, রিপোটার্স ইউনিটি, সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ সহ সকল সদস্য মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
মরহুমের মৃত্যুর কষ্ট যেন পরিবার সইতে পারে সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন সবাই। এদিকে তার অকাল মৃত্যুতে ৩ দিনের শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বুধবার টামটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯ টায় নামাজে জানাজা শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরাস্তি উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, চাঁদপুর জেলা পরিষদ সদস্য আ’লীগ নেতা মোঃ জাকির হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আবুল হোসেন, সুচিপাড়া ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাদক্ষ, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, টামটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহ বিএসসি, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মঈনুল ইসলাম কাজল, হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, সাবেক পৌর বিএনপি’র সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলী আজগর মিয়াজী, নিউজ পোর্টাল নতুনের কথার সম্পাদক মহিউদ্দিন আল আজাদ, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক স্বপন কর্মকার মিঠুন,কৃষক লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন জনী, ইউপি আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান,মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ ,শাহরাস্তি  প্রেসক্লাবের সহ-যুগ্ম সম্পাদক, সকলের কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ,  অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমরুজ্জামান সবুজ, শাহরাস্তি প্রেসকাবের কার্যকরী সদস্য কামরুজ্জামান সেন্টু, জাতীয় সাংবাদিক ফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হাসানুজ্জামান,  সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের  প্রচার সম্পাদক মোঃ জামাল হোসেন, সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান নয়ন, ইমতিয়াজ হোসেন ত্বোহা সহ সকল স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এলাকার সুধীজন তার নিকট আত্মীয় নামাজে জানাজা উপস্থিত ছিলেন।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।