বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে গেজেটে নাম ও সুবিধা  বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ মিনারে অবস্থান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মে, ২০২২, ২:২৯ পিএম
শাহরাস্তিতে গেজেটে নাম ও সুবিধা  বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ মিনারে অবস্থান
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের  শাহরাস্তিতে ১৮১জন মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা গেজেটভূক্ত না হওয়ায় তারা শহীদ মিনারে অবস্থান করে দুঃখ কষ্টের বিষয়টি জানান দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সম্বলিত কাগজপত্রাদি থাকা শর্তেও নানা জটিলতায় তালিকা বঞ্চিত হয়ে তারা সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন সহ পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ।
সোমবার (৯- মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতের জন্য এসে শাহরাস্তি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি গনমাধ্যমকে জানান দেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বর্তমানে এ উপজেলায় ভাতা স্থগিত ৩৪ জন, সনদধারী ১৯ জন ও অনলাইনে আবেদনকারী ১শ’ ২৮ জনসহ ১শ’ ৮১ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে ৩৪ জনের ভাতা স্থগিত রয়েছে। ২০১৭ সালে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক ১ শ’ ৮১ জনের তালিকা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। পুনরায় ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাতা স্থগিত ও সনদধারি ৫৩ জনের তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠান।
মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন পুনরায় যাচাই করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সে প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতায় তাঁরা গেজেটভূক্ত হতে পারছেন না। ইতোমধ্যে এদের মধ্যে কেউকেউ মারা গেছেন, অনেকেই মৃত্যুশয্যায়। যারা বেঁচে আছেন তাঁরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তাঁরা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
খনেশ্বর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আমাদের বাছাইয়ের তালিকা না পাঠানোয় আমরা ভাতা বঞ্চিত হয়ে দূর্বিষহ জীবন যাপন করছি। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতায় ভাতা না পেয়ে অনেক দুঃখে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। আজ অর্থকষ্টে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আবার এই বয়সে পরিবারের বোঝা হিসেবে তাচ্ছিল্য শিকার হচ্ছি। একপর্যায়ে তিনি বলেন এ জন্য দেশ স্বাধীন করেছি আজ আমরাই অসহায় অবহেলিত।
কুলশী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হাশেম জানান, বর্তমানে আমি দৃষ্টিহীনতায় ভুগছি। ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের তালিকা জামুকা’তে পাঠানো হচ্ছেনা। সেটা কেন? কি জন্য?  আমাদের কি অপরাধ? সেটার প্রতিকার চাই।
উঘারিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা একেএম ফজলুল হক জানান, আমরা সঠিক মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কেন অবহেলিত সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রায়শ্রী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমতাজউদ্দিন জানান, ভাতা বন্ধ একথা লজ্জায় কাউকে বলতে পারছি না। বিষয়টি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের কাছে পর্যন্ত লুকাতে হচ্ছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত ও বিব্রত।
এদিকে এ বিষয়ে শাহরাস্তি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, এই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট থাকা শর্তেও  নানা জটিলতায় বর্তমানে  তারা ভাতা বঞ্চিত রয়েছে। এমতাবস্থায়  অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে সমাধান করলে পরিবারগুলি উপকৃত হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital