ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে নিত্যপণ্যের চড়া দাম : বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ

মাসুদ হোসেন : চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, পেয়াঁজ ও সবজির দাম এখনো নিম্ন বিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ধরা ছোয়ার বাইরে থাকায় চাঁদপুরের অধিকাংশ মানুষ যথেষ্ঠ কষ্টে আছেন। এসব শ্রেণীর মানুষের এখন সংসারের চাকা সচল রাখাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে।
খরচের লাগাম টেনেও সংসার ব্যায় নির্বাহে কোন স্বস্তি নেই। ফলে হতাশা ভর করছে চাঁদপুরের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে। বাজারের এমন হালচাল নিয়ে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। সাধারণ ক্রেতারা বলেন, ‘নিত্য পণ্যের দাম যে বাড়ল, তা কমবে কবে?’ অতীতে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার যেসব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা হত, তা অনুপস্থিত গত রমজানের পর থেকেই। ফলে মানুষের দূর্ভোগ আর কষ্ট লাঘবের কোন লক্ষন নেই।
চাঁদপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, পেয়াঁজসহ সকল মুদি পণ্যে বেড়েছে দাম। এছাড়াও কনফেকশনারি পণ্য কিংবা রেস্টুরেন্ট খাবারেও বেড়েছে দ্বিগুন দাম। জেলার গ্রাম-গঞ্জে একসময়ে কৃষি শ্রমিক ও দিন মজুরদের তেমন কোন কাজ না থাকায় নিম্ন বিত্ত মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থাও অনেকটাই নাজুক। করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে যে আর্থিক সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। সাথে নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতি গোটা চাঁদপুরের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাকে আরো নড়বড়ে করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) চাঁদপুরের কয়েকটি খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪২- ৪৫ টাকায়। রসুন ৫০-৭০ টাকা ও আদার দাম ১৩০-১৫৫ টাকা থাকলেও গোল আলুর কেজি এখনো ২২-২৫ টাকা। এমনকি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে গ্রীষ্মকালীন সবজির বেশীরভাগ এবং আগাম শীতকালীন সবজীর প্রায় পুরোটাই বিনষ্ট হওয়ায় বাজারে এর দাম এখন চড়া। ৫০ টাকার নিচে এখন আর কোন সবজী মিলছে না বাজারে। সিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, গাজর ১৪০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শষা ৬০-৭০ টাকা, কালো বেগুন ৫০ টাকা, কই ৫০ টাকা, দু্ন্দুল ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, ছড়া ৫০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকা, ফুল কপি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে মুসুর ডালের কেজি এখনো ১০০ থেকে ১২০ টাকা। মুগডালের কেজিও ১২০-১৩০ টাকা। এমনকি খেশারী ডালের কেজি এখন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকায়। ময়দার কেজি ৬০-৬৫ টাকা আর সয়াবিন তেলও বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে। ব্রয়লার মুরগীর কেজি এখনো ১৭০ টাকা ও কক মুরগী ৩০৯ টাকা কেজি। গরুর গোসতের কেজি ৭শ টাকা।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ মিনারে শিশু-কিশোরা, শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধায় হৃদয়ে জাগরন সৃষ্টি

চাঁদপুরে নিত্যপণ্যের চড়া দাম : বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২
মাসুদ হোসেন : চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, পেয়াঁজ ও সবজির দাম এখনো নিম্ন বিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ধরা ছোয়ার বাইরে থাকায় চাঁদপুরের অধিকাংশ মানুষ যথেষ্ঠ কষ্টে আছেন। এসব শ্রেণীর মানুষের এখন সংসারের চাকা সচল রাখাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে।
খরচের লাগাম টেনেও সংসার ব্যায় নির্বাহে কোন স্বস্তি নেই। ফলে হতাশা ভর করছে চাঁদপুরের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে। বাজারের এমন হালচাল নিয়ে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। সাধারণ ক্রেতারা বলেন, ‘নিত্য পণ্যের দাম যে বাড়ল, তা কমবে কবে?’ অতীতে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার যেসব দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা হত, তা অনুপস্থিত গত রমজানের পর থেকেই। ফলে মানুষের দূর্ভোগ আর কষ্ট লাঘবের কোন লক্ষন নেই।
চাঁদপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, পেয়াঁজসহ সকল মুদি পণ্যে বেড়েছে দাম। এছাড়াও কনফেকশনারি পণ্য কিংবা রেস্টুরেন্ট খাবারেও বেড়েছে দ্বিগুন দাম। জেলার গ্রাম-গঞ্জে একসময়ে কৃষি শ্রমিক ও দিন মজুরদের তেমন কোন কাজ না থাকায় নিম্ন বিত্ত মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থাও অনেকটাই নাজুক। করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে যে আর্থিক সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। সাথে নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতি গোটা চাঁদপুরের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাকে আরো নড়বড়ে করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) চাঁদপুরের কয়েকটি খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪২- ৪৫ টাকায়। রসুন ৫০-৭০ টাকা ও আদার দাম ১৩০-১৫৫ টাকা থাকলেও গোল আলুর কেজি এখনো ২২-২৫ টাকা। এমনকি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে গ্রীষ্মকালীন সবজির বেশীরভাগ এবং আগাম শীতকালীন সবজীর প্রায় পুরোটাই বিনষ্ট হওয়ায় বাজারে এর দাম এখন চড়া। ৫০ টাকার নিচে এখন আর কোন সবজী মিলছে না বাজারে। সিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, গাজর ১৪০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শষা ৬০-৭০ টাকা, কালো বেগুন ৫০ টাকা, কই ৫০ টাকা, দু্ন্দুল ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, ছড়া ৫০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকা, ফুল কপি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে মুসুর ডালের কেজি এখনো ১০০ থেকে ১২০ টাকা। মুগডালের কেজিও ১২০-১৩০ টাকা। এমনকি খেশারী ডালের কেজি এখন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকায়। ময়দার কেজি ৬০-৬৫ টাকা আর সয়াবিন তেলও বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে। ব্রয়লার মুরগীর কেজি এখনো ১৭০ টাকা ও কক মুরগী ৩০৯ টাকা কেজি। গরুর গোসতের কেজি ৭শ টাকা।