শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

শীত জেঁকে বসার আগেই লেপ-তোশক তৈরির ধুম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ১:১০ পিএম
শীত জেঁকে বসার আগেই লেপ-তোশক তৈরির ধুম

মনিরুল ইসলাম মনির : শীত এলেই লেপ তোষক বানানোর ধুম পড়ে যায় দোকানে দোকানে। কিছু দিন পরেই জেঁকে বসবে শীত। এবার কার্তিকের শীতের আমেজ আগেই টের পাওয়ায় জনসাধারণ ভীড় জমাতে শুরু করেছে ও শীত জেকে বসার আগে তাই লেপ-তোষক তৈরির ধুম লেগেছে মতলব উত্তর উপজেলার সকল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। ফলে লেপ-তোষকের দোকানে বাড়ছে বেচা-কেনা।

এসব দোকানের কর্মচারীদের এখন অলস সময় কাটানোর একদম ফুরসত নেই। উপজেলার পৌর এলাকাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লাতে লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা এখন হাঁক-ডাক করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তুলা, লেপের কাপড় ফোম এবং মজুরী গত বছরের তুলনায় এবার বেশী বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা। এসব দোকানে দিন দিন বেড়েই চলছে লেপ-তোষক ক্রেতাদের ভীড়। পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরী কারিগরদের। ছেংগারচর বাজারের লেপ তোষক তৈরীর প্রতিটি দোকানে এখন ১৫/২০টি লেপ তোষক তৈরী হচ্ছে। এদিকে শীত বস্ত্র বিক্রির দোকানেও ভীড় ও কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,শুধু লেপ-তোষক তৈরিই নয়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহার্য সামগ্রীতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পাতলা পোশাকের পরিবর্তে অনেকেই মোটা জামার দিকে ঝুঁকছেন। তাই এখন কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম পোশাকেরও। এছাড়া শীতের সময় কাঁথা,কম্বল, চাঁদর বা শাল,শীতের টুপি,হাতমোজা,মাফলার,জাজিম ও কার্পেটের ব্যবহার ও বিক্রি বেড়ে যায়। ছয় ঋতুর এই দেশে শীতের আগমনী বার্তা শীতকালে হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না।

নতুন বাজারের বেডিং স্টোরের সত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, শীত সবে মাত্র আসতে শুরু করেছে। এর আগেই লেপ-তোষক তৈরির অর্ডারও পাচ্ছি ভাল। আমরাও ব্যস্ত সময় পার করছি। শীত বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসা আরো বৃদ্দি পাবে। তবে জিনিষপত্রের দাম বেশি হওয়ায় তাদেও ইচ্ছমতো লেপ-তোষক বানাতে পারছেন না। পুঁজি স্বল্পতার কারণে বেশি মাল তৈরি করতে পারছি না। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি লেপ তৈরী হয়ে থাকে। ৪-৫ হাত মাপের তৈরী লেপ ৯০০ থেকে ১৬৫০ পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

Model Hospital

লেপ তোষক তৈরীর কারিগর আবদুল আউয়াল বলেন, আমি দীর্ঘকয়েক বছর যাবত লেপ তোষকের কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছি। আমার বাবাও একজন লেপ তোষকের কারিগর ছিলেন। বাবার সুত্র ধরেই আমিও আজও চার দশক ধরে এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছি।

সুজাতপুর বাজারে লেপ-তোষক কিনতে আসা কামাল সরকার জানান, শীত পড়তে শুরু করেছে। বেশি শীত পড়ার আগেই নতুন লেপ-তোষক তৈরি করতে এসেছি। কিন্তু তুলা, কাপড় ও কারিগরের মুজুরি বেশি হওয়ায় দুটোর স্থলে একটা বানিয়ে নিলাম।

শাহমাহমুদপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চান দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
শাহমাহমুদপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চান দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনী মাঠে থাকতে চান দুইবারের সাবেক সফল চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ। ভোটারদের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
স্বপন মাহমুদ চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। তিনি এর আগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১০ বছর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজের দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বপন মাহমুদ প্রিয় চাঁদপুরকে বলেন, অতীতে টানা ১০ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে চাই। এমনকি ঐ সময়কালীন বিভিন্ন হামলা-মামলার শিকার হয়েও শাহমাহমুদপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি। এই ইউনিয়নের মানুষের কাছেই থেকেছি। সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছাকাছি থেকে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এতে করেই তৎকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলায় শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেছি। পাশাপাশি আমার রাজনৈতিক দলের দুঃসময়েও দলের সকল কর্মকান্ডে জড়িত থেকে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্যবার কারানির্যাতিত স্বপন মাহমুদের প্রত্যাশা, তাঁর দল বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সুবাদে দলীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তিনি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নকে শুধু সাধারণ একটি ইউনিয়ন হিসেবে নয়, বরং চাঁদপুর জেলার মধ্যে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
স্বপন মাহমুদের মতে, জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থাকা এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভোটারদের সমর্থন ও আস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
দীর্ঘ ১০ বছরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে আবারও জনগণের সেবা করার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান স্বপন মাহমুদ। তবে তাঁর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ভোটারদের সমর্থন ও নির্বাচনে বিজয়। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শাহমাহমুদপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বপন মাহমুদের মডেল ইউনিয়ন গড়ার পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ভাবনা ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে, তা নির্ভর করবে তাঁর নির্বাচনী অবস্থান ও জনসমর্থনের ওপর।