শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া গোহট উত্তরে চেয়াম্যান পদে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কবির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ৩:১০ পিএম
কচুয়া গোহট উত্তরে চেয়াম্যান পদে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কবির

মেহেদী হাসান : আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে গোহট উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন (এম.এ)। তিনি ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। চেয়ারম্যান পদে শপথ গ্রহণের পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করার পাশাপাশি জনগনের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িতে তাদের আস্থা ও বিশ^াস জোগাড় করে নিয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২১ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত তৃণমূল আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। জোট সরকারের আমলে বহু নির্যাতিত ৯০ দশকের এ নেতা তাঁর মনোনয়ন লাভে একটি স্রোতধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন। কর্মীদের দুঃখ ও দুর্দশায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। একইভাবে দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সু-দৃষ্টি কাড়ার ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভে দৃঢ় মনোবল পোষণ করছেন।

চেয়ারম্যান কবির হোসেনের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর দলীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানান, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ^াসী হয়ে ১৯৯০ সালে প্রথম ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পালগিরী বেগম রোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও এর পর থেকে অদ্যাবদি পর্যন্ত কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত। শিক্ষাসহ সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন দীর্ঘদিন থেকে। তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়ে চলছেন। করোনাকালীন সময়ে সরকারি বরাদ্দগুলো সুষম বন্টণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নানাভাবে বিপদগ্রস্থদের পাশে দাড়িয়েছেন। শিক্ষাগত জীবনে তিনি এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি থেকে এম,এ করেছেন।

সাংগঠনিকভাবে তিনি ১৯৯৭-৯৮ সালে কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, কচুয়া পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া ৯৬ এর অসহযোগ আন্দোলন, ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারী প্রহসনের নির্বাচন, ২৮ অক্টোবর লগিবৈঠা আন্দোলন, ৫ জানুয়ারী জামায়াত শিবির তান্ডবে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

Model Hospital

রাজনৈতিক নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১১টি মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। ২০০০ ইং সনের ৭ মার্চ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরন করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফেলে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা করালেও পরে তিনি মাদ্রাজ গিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়েছেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে হামলায় নির্যাতিত হয়ে অনেকবার হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এমনি অবস্থায়ও অবিরাম দলের প্রদত্ত দায়িত্ব সম্পাদনে কোন ত্রটি ও বিচ্যুতি ঘটতে দেননি।

তিনি আরো জানান, ২০ অক্টোবর ২০২ উপ-নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছেন। জয় লাভের পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ঘোষিত যেকোন আন্দোলন, নির্বাচন, দলীয় কর্মকান্ড দলের স্বার্থে যথাযত ভাবে পালন করছেন। আর জীবন তাকা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাবেন। দলের জন্য তাঁর এসব অবদানের কথা নেতৃবৃন্দ সু-বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’