বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ই-টিকেটিং ব্যবস্থার মনিটরিং জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩, ৭:৩০ পিএম
ই-টিকেটিং ব্যবস্থার মনিটরিং জরুরি

গণপরিবহনে বাড়া নৈরাজ্য নতুন নয়। জনগণের ওপর দিয়ে সব চলে যায় বলে এদিকে কারো চোখ যায় না। নতুন এক একটা সিস্টেম চালু হয় তা দেখাশোনার থাকে না কেউ। গণপরিবহনে ই-টিকেট চালু হয়েছে বেশ কিছুদিন কিন্তু এতে জনগণ কতটা সংকটে তা দেখার নেই কেউ। গণপরিবহনে ই-টিকেট পদ্ধতি চালু হওয়ার একমাসের বেশি সময় হলেও তাতে সফলতার মুখ দেখেনি সাধারণ যাত্রীরা। কাগজে-কলমে ই-টিকেট ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তব চিত্র পুরোপুরি আলাদা। বাসের অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়নি।

ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছেই। ই-টিকেটের আওতায় আসা নগরীর অর্ধেকের বেশি বাসে ভাড়া নিয়ে মেশিন থেকে সমমূল্যের টিকেট যাত্রীর হাতে দিতে পরিবহন শ্রমিকদের প্রবল অনীহা দেখা গেছে। যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করার প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি পর্যন্ত হচ্ছে।

ই-টিকেট পদ্ধতি চালুর সময় পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বিষয়টি নিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা জানালেও বাস্তবে তা অপর্যাপ্ত। পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলেছেন, বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে ই-টিকেট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। শুরুতেই সব শতভাগ সফল হয় না; তবে আমরা হাল ছাড়ছি না। মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে ৫ এপ্রিল থেকে নেতারা রাস্তায় নামবেন।

নগরীর বিভিন্ন রুটে ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাসের কন্ডাকটরের হাতে ই-টিকেটের মেশিন থাকে না। মোহাম্মদপুর-খিলগাঁও রুটের মিডলাইন পরিবহন, মোহাম্মদপুর-ধুপখোলা রুটের মালঞ্চ পরিবহনের বাসের কন্ডাকটরের কাছে ই-টিকেটিং মেশিন দেখা যায় না। মোহাম্মদপুর-আব্দুল্লাহপুর লাইনে আলিফ, ভুইয়া পরিবহনে একই অবস্থা। টিকেট না দিয়েই যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

Model Hospital

তাছাড়া ই-টিকেট থেকে কখনো ভাড়া কাটলেও এয়ারপোর্ট থেকে বনানী পর্য়ন্ত ২০ টাকা। তা যেখান থেকেই ওঠা হোক। বিকাশ পরিবহন, শিকড় পরিবহন, প্রজাপতি পরিবহন, বাহন, আলিফ, ভুইয়া পরিবহনের বাসেও ই-টিকেট পদ্ধতির সুফল মেলেনি। মালিক সমিতির কাছেও অভিযোগ রয়েছে। বাসগুলোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সরবরাহ করা ভাড়ার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নেয়া হয় না। ই-টিকেটে স্থান ও ভাড়ার টাকা নির্দিষ্ট করে লেখা থাকলেও এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব উল্লেখ নেই। এক কিলোমিটার যেতেও ২০ টাকা নেয়া হচ্ছে, আবার আরো বেশি দূরত্বে যেতেও ২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়া ১০ টাকা। আবার টাউনহল থেকে আসাদগেট পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বের ভাড়াও ১০ টাকাই নেয়া হচ্ছে। হাফ কিলোমিটার দূরত্বের ভাড়া কেন ১০ টাকা নেয়া হবে- তা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কন্ডাকটরের বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। রাজধানীর অন্য রুটেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এদিকে পরিবহন মালিক সমিতি একসময় ‘ওয়েবিল’, ‘সিটিং সার্ভিস’ ও ‘গেইটলক সার্ভিসের’ নামে দীর্ঘদিন ভাড়ার নৈরাজ্য চালিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করে নেয়। সড়ক ও গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করতেই ২০১২ সালে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বাসে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু করে।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) র‌্যাপিড পাসের মাধ্যমে ই-টিকেট দিয়ে ভাড়া আদায় করে। কিন্তু এই ব্যবস্থা সফল হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন রুটের আটটি কোম্পানির দেড় হাজার বাসে ই-টিকেট চালু করে। এরপর ১৩ নভেম্বর থেকে মিরপুর অঞ্চলেও ১০ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থেকে ১৫টি রুটে ই-টিকেট ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর বিভিন্ন রুটের বাসে ই-টিকেটিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া আদায় শুরু হয়। এই রুটে বাসের সংখ্যা ৭১১টি। বর্তমানে সবমিলিয়ে মোট ৫৯টি রুটে ই-টিকেট পদ্ধতি চালু থাকলেও সফলতা খুবই নগণ্য। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়া বন্ধ করতেই আমরা ই-টিকেট পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু মনিটরিংয়ের অভাবে কিছুই হচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করা জরুরি। এছাড়াও আমরা মনেকরি ভাড়া নৈরাজ্য দূর করতে হলে প্রথমে চালক ও তার সহকারীর মাসিক বেতনভিত্তিক নিয়োগ এবং কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে।

চাঁদাবাজি ও চুরি বন্ধ করতে হবে। নতুবা ই-টিকেটিং চালু থাকলে জনগণের উপকারে আসবে না।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।