শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রামপুরের ছোট সুন্দর এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৩ সনের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩, ৫:৩৪ এম
রামপুরের ছোট সুন্দর এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৩ সনের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সনের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আল মামুন পাটওয়ারী বলেন, তোমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া নয়, সবার আগে নিজেদের মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ পড়াশুনা শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষকেরা তোমাদের মনুষ্যত্ব জাগ্রত করতে শ্রম দিয়ে গেছেন। একজন মানুষ তার জীবনে মানুষের জন্য কি করলেন সেটাই তার বড় সফলতা। নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলো যাতে  আশেপাশের সবাই তোমার মাধ্যমে আলোকিত হতে পারে৷ তোমাদের আলোতেই সকল অন্ধকার দূর হবে।
তিনি আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় তোমাদের ভাল ফলাফলের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ জীবনে আরও এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। স্মার্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে নাগরিকেরা হল তরুণ-তরুণীরা। তোমাদের হাতেই স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তোমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। দেশপ্রেম জাগ্রত করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পৌঁছে দিতে তোমরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারো। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত তরুণরাই হবে আগামীর দেশ গড়ার কারিগর। ভাল ফলাফল করে তারা নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বিকাশ কুমার ভৌমিক এর উপস্থাপনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক মোক্তার আহমেদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অলি আহমদ জসিম পাটওয়ারী, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী, অভিভাবক সদস্য ও ইউপি সদস্য রিপন পাটওয়ারী, মোঃ তালিম পাঠান, রামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন পলাশ পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মাছুম বিল্লাহ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
শেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ছোট সুন্দর বাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মোঃ জাকারিয়া। জানা যায়, এবছর উক্ত বিদ্যালয় থেকে ১১৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’