ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ বাজারে স্বর্ণ পোড়ানো বিষাক্ত এসিডের ধোঁয়ায় মানুষের দুর্ভোগ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে ছোট বড় কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে শতাধিকের উপরে রয়েছে শুধু স্বর্ণের দোকান। এক সময় এসব প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণ পোড়ানো হতো। ব্যবসায়ী সমিতির হস্তক্ষেপে ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত ক্রমে এর সংখা চার ভাগের তিন ভাগ কমে আসে। বর্তমানে যেসব দোকানের কারিগররা  বিষাক্ত সালফার এসিড ও নার্টিং এসিড দিয়ে স্বর্ণ পোড়ায় তার দুষিত ধোয়া পাইবের লাইন আকাশের দিকে দিলেও ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো হাজীগঞ্জ বাজারে। আর এতে করে দিন দিন দুর্ভোগ বেড়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। দিনে রাতে প্রকাশ্যে স্বর্ণ পড়ানোর ধোয়া চোখের সামনে উড়ছে যেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ মধ্য বাজারের স্বর্ণকার পট্রিতে বিষাক্ত সালফার এসিড ও নার্টিং এসিড দিয়ে স্বর্ণ পড়াচ্ছেন, নিশি শিল্পালয়ের গৌতম, ফাতেমা শিল্পালয়ের এমরান হোসেন, মা শিল্পালয় এন্ড ডাইস কাটিং সেন্টার এর সত্ত্বাধিকারী শংকর, লোকশ্রী শিল্পালয়ের মানিক রায়, জান্নাত শিল্পালয়ের বিল্লাল হোসেন, রায় শিল্পালয় দিনেশ বাবু, হানিফ জুয়েলার্স হানিফ, হান্নান জুয়েলার্স রিপন, হাজী জুয়েলার্স, বিসমিল্লাহ জুয়েলার্স, রায় জুয়েলার্সসহ গলির ভিতরে আরো অনেক কারিগর।
এক ভরি স্বর্ণ রং পালিশ করা হলে স্থানীয় জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩/ ৪ শত টাকা রাখা হয়।
কারিগর জয়নাল বলেন, প্রতিদিন যে পরিমান ভরি কাজ করি তা থেকে ৭/৮ শ টাকা পাই। বাকী সুবিধা ভোগ করে দোকানের মালিক পক্ষরা।
এখানকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের সুবিধামত ঘরের ভিতরে স্বর্ণ পোড়াচ্ছে আর বিষাক্ত ধোঁয়া যেন মানুষের রোগব্যাধি বাড়াচ্ছে। ইতি পূর্বে এসব বিষয়ে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও বিকল্প কোন সুরাহা হয়নি।
হাজীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বনিক ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী বাবু রুহিদাস বনিক বলেন, স্বর্ণ পোড়ানো ধোঁয়া বাতাসের সাথে মিশে একাকার হয়ে আমরা নিশ্বাস নিচ্ছি। এটা যে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর তাহা বলার অবকাশ নেই।
আহসান উল্ল্যা ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, আমার দোকানের কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে যায়। এগুলো পড়াশোনার জন্য নদীর পাড়ে নিলে ভালো হতো।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক রায় বলেন, আগে প্রত্যেক ঘরে ঘরে পোড়ানো হত, এখন হাতে গনা কয়েকজন পোড়ায়। আমরা পাইবের মাধ্যমে দুয়া উপরে লাইন দেওয়ায় ধোয়া উঠে যায়। তবে বাতাসে কিছুটা ক্ষতি করে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন বলেন, ইতিপূর্বে অভিযোগ পেয়ে তাদেরকে বলেছি বিশেষ করে আছর ও মাগরিবের নামাজের সময় স্বর্ণ না পোড়ানোর জন্য। তার পরেও ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে গুরুতর অভিযোগ পেলে বিকল্প সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্যাগস :

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ

হাজীগঞ্জ বাজারে স্বর্ণ পোড়ানো বিষাক্ত এসিডের ধোঁয়ায় মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ১১:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মে ২০২৩
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে ছোট বড় কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে শতাধিকের উপরে রয়েছে শুধু স্বর্ণের দোকান। এক সময় এসব প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণ পোড়ানো হতো। ব্যবসায়ী সমিতির হস্তক্ষেপে ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত ক্রমে এর সংখা চার ভাগের তিন ভাগ কমে আসে। বর্তমানে যেসব দোকানের কারিগররা  বিষাক্ত সালফার এসিড ও নার্টিং এসিড দিয়ে স্বর্ণ পোড়ায় তার দুষিত ধোয়া পাইবের লাইন আকাশের দিকে দিলেও ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো হাজীগঞ্জ বাজারে। আর এতে করে দিন দিন দুর্ভোগ বেড়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। দিনে রাতে প্রকাশ্যে স্বর্ণ পড়ানোর ধোয়া চোখের সামনে উড়ছে যেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ মধ্য বাজারের স্বর্ণকার পট্রিতে বিষাক্ত সালফার এসিড ও নার্টিং এসিড দিয়ে স্বর্ণ পড়াচ্ছেন, নিশি শিল্পালয়ের গৌতম, ফাতেমা শিল্পালয়ের এমরান হোসেন, মা শিল্পালয় এন্ড ডাইস কাটিং সেন্টার এর সত্ত্বাধিকারী শংকর, লোকশ্রী শিল্পালয়ের মানিক রায়, জান্নাত শিল্পালয়ের বিল্লাল হোসেন, রায় শিল্পালয় দিনেশ বাবু, হানিফ জুয়েলার্স হানিফ, হান্নান জুয়েলার্স রিপন, হাজী জুয়েলার্স, বিসমিল্লাহ জুয়েলার্স, রায় জুয়েলার্সসহ গলির ভিতরে আরো অনেক কারিগর।
এক ভরি স্বর্ণ রং পালিশ করা হলে স্থানীয় জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩/ ৪ শত টাকা রাখা হয়।
কারিগর জয়নাল বলেন, প্রতিদিন যে পরিমান ভরি কাজ করি তা থেকে ৭/৮ শ টাকা পাই। বাকী সুবিধা ভোগ করে দোকানের মালিক পক্ষরা।
এখানকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের সুবিধামত ঘরের ভিতরে স্বর্ণ পোড়াচ্ছে আর বিষাক্ত ধোঁয়া যেন মানুষের রোগব্যাধি বাড়াচ্ছে। ইতি পূর্বে এসব বিষয়ে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও বিকল্প কোন সুরাহা হয়নি।
হাজীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বনিক ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী বাবু রুহিদাস বনিক বলেন, স্বর্ণ পোড়ানো ধোঁয়া বাতাসের সাথে মিশে একাকার হয়ে আমরা নিশ্বাস নিচ্ছি। এটা যে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর তাহা বলার অবকাশ নেই।
আহসান উল্ল্যা ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, আমার দোকানের কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে যায়। এগুলো পড়াশোনার জন্য নদীর পাড়ে নিলে ভালো হতো।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক রায় বলেন, আগে প্রত্যেক ঘরে ঘরে পোড়ানো হত, এখন হাতে গনা কয়েকজন পোড়ায়। আমরা পাইবের মাধ্যমে দুয়া উপরে লাইন দেওয়ায় ধোয়া উঠে যায়। তবে বাতাসে কিছুটা ক্ষতি করে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন বলেন, ইতিপূর্বে অভিযোগ পেয়ে তাদেরকে বলেছি বিশেষ করে আছর ও মাগরিবের নামাজের সময় স্বর্ণ না পোড়ানোর জন্য। তার পরেও ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে গুরুতর অভিযোগ পেলে বিকল্প সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।