বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাগুরু এম এ ইউসুফ স্যার আর বেঁচে নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:১৪ পিএম
মতলবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাগুরু এম এ ইউসুফ স্যার আর বেঁচে নেই

মতলব উত্তর ব্যুরো : জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাগুরু মতলবের এম এ ইউসুফ স্যার আর বেঁচে নেই। আজ ১৫ ডিসেম্বর বুধবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন(ইন্নালিল্লাহ…….রাজেউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি ৫ ছেলে, ৩ মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে ফরাজীকান্দি মাদ্রাসা মসজিদের সামনে এবং সকাল ১০ টায় মরহুমের নিজবাড়ী সংলগ্ন রামদাশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২য় জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

বরেন্য শিক্ষাগুরু এমএ আবু ইউছুফ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়নাধীন বোরোচর গ্রামে মরহুম লাল মিয়া সরকারের সংসারে ২রা আগষ্ট ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহন করেন। এম এ ইউসুফ আড়াই বছর বয়সে বোরোচর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে বাড়ি করেন তার পরিবার বর্তমান আবাসস্থল ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নাধীন রামদাশপুর গ্রামে। পিতার সংসারে পাঁচ বোনের একমাত্র ভাই এম এ ইউসুফ ছিলেন সকলের মধ্যমণী। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের প্রফেসর প্রখ্যাত লেখক প্রয়াত হাফেজ হাবিবুর রহমান (MNA-মেম্বার অফ ন্যাশনাল এসেম্বলি) তার ভাতিজা এম এ ইউসুফ দিয়েছেন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। ধীরে ধীরে মেধার প্রসার ও লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে উঠে কিশোর এম এ ইউসুফ।

১৯৫৯ সালে ছেঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন (বর্তমান SSC) পাশ করেন। ১৯৬২ সালে সিলেটের সরকারী মুরারী চাঁদ কলেজ (বর্তমান সরকারী এম সি কলেজ) থেকে আইএ সম্পন্ন করেন লাখো হৃদয়ের প্রিয় শিক্ষাগুরু মোঃ আবু ইউসুফ। ১৯৬৪ সালে সরকারী মুরারী চাঁদ কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন প্রিয় শিক্ষাগুরু। ১৯৬৪ সালের আগষ্টে এম এ ইউসুফ প্রিয় শিক্ষক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী প্রয়াত বদিউর রহমান পাটোয়ারীর অনুরোধে ছেঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন শিক্ষকতার মহান পেশায়।

Model Hospital

শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৬৮ সালে কুমিল্লা বিএড কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করেন স্পষ্টভাষী এই আবু ইউসুফ। ১৯৬৯ সালে চাঁদপুরের পুরান বাজারস্থ নুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। নানাগুণে গুনান্নীত ও ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন এম এ ইউসুফ ১৯৭২ সালে নুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। তিনি সততা, শিক্ষার কৌশল, ও পরিচালনায় ছিলেন দারুণ পারদর্শী তাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সকলের কাছে। ১৯৭৭ সালে ১৬ই জানুয়ারী হাজারো মানুষের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মতলবের ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। তখন বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ছিল সবমিলিয়ে প্রায় ২৭০ জনের মতো।

অজস্র ভালোবাসায় সিক্ত আবু ইউসুফ ২০০০ সালে চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার পিংড়ায় অবস্থিত হজরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন। ২০০২ সালে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন প্রধান শিক্ষকের পদে। ২০০৩ সালে হজ্ব পালন করেন ধর্মভীরু প্রিয় ব্যাক্তিত্ব এম এ ইউসুফ। ২০০৪ সালে মহান শিক্ষাগুরু অবসর নেন তার কর্ম জীবন শিক্ষকতা থেকে। সংসার জীবনে পাঁচ পুত্র সন্তান ও তিন কন্যা সন্তানের জনক ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চীরতরে হারিয়েছেন তার সহধর্মিনীকে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital