শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব সারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ ও সমাজসেবকদের সম্মাননা প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:৫২ পিএম
মতলব সারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ ও সমাজসেবকদের সম্মাননা প্রদান

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার সমাজসেবামূলক ও মানবিক সেবামূলক সংগঠন সারা ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে গজরা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল প্রদান করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও সমাজসেবকদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব হানিফ দর্জি। সারা ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আমির হোসেন প্রধান (রাসেল) এর সভাপত্বি ও ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবি সাইদ আশিকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানা উল্লাহ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ওহেদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদ, গজরা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ সোহেল, প্যানেল চেয়ারম্যান-২ শহিদ উল্লাহ, আলী আকবর মাস্টার, গজরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি টিপু মুন্সি, ইউপি সদস্য জাহিদ হোসেন, নুরুল ইসলাম নুরু প্রমুখ। এছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সারা ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব হানিফ দর্জি বলেন, সব মানুষের ধন থাকলেই সমাজসেবা করার মন থাকে না। আবার অনেকের ধন নেই তাদেরও সমাজসেবা করার মন থাকে। তারই একটি প্রমাণ আমির হোসেন রাসেল। তিনি সারা ফাউন্ডেশন সংগঠনের নামে সমাজসেবা করে যাচ্ছেন ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁচ্ছেন। তাই আমি তাকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, এধরনের সমাজসেবায় আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ। যার যার জায়গা থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করলে আমাদের সমাজ আরও উন্নত হবে। তাই আসুন কেউ কারো সমালোচনা না করে সবাই হাতে হাত রেখে সমাজসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ি। তাহলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

Model Hospital

হানিফ দর্জি বলেন, আমি দীর্ঘ ৫ টি বছর আপনাদের সেবা করেছি। চেষ্টা করেছি সবাইকে সেবা দেওয়ার। আমি যদি কাউকে উপকার করতে নাও পেরেছি, কিন্তু কাউকে কোন ক্ষতি করিনি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি আছি আগামীতেও গজরা ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকবো। নতুন যিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন শহীদ উল্লা স্যার সবাই তাকে সহযোগীতা করবেন, তাহলেই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গজরাকে একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গজরা ইউনিয়নের ডুবগী গ্রামের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ আমির হোসেন প্রধান (রাসেল) ২০১৬ সালে সারা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গরীব দুঃখী ও অসহায় মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছেন।

গত ৫ বছরে তিনি ১০ লাখ টাকারও বেশি সমাজসেবায় ব্যয় করেছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের হুইল চেয়ার, শীর্তাদের মাঝে কম্বল, অসহায় নারীকে সেলাই মেশিন, অসহায় মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা ও করোনা মহামারীতে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ত্রাণ সহায়তা সহ নানান ভাবে মানুষকে সহযোগীতা করে আসছে সংগঠনটি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’