শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলার সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মজুমদার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৯:৫৭ এম
চাঁদপুর জেলার সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মজুমদার

নোমান হোসেন আখন্দ : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২১,চাঁদপুর জেলার ১ম থেকে ৪র্থ ধাপ পর্যন্ত নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের বয়স বিশ্লেষনে চাঁদপুর জেলার সর্বকনিষ্ঠ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহরাস্তির মেহার উত্তর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো: জহিরুল ইসলাম মজুমদার।

গত ২৬ ডিসেম্বর রবিবার ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মো: জহিরুল ইসলাম মজুমদার ( আনারস) প্রতিক নিয়ে ২ হাজার ৯ শত ৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত মো: মনির হোসেন ( নৌকা) প্রতিক নিয়ে পান ১১ শত ৯৩ ভোট। প্রায় ১ হাজার ৭ শত ৮৯ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ মনোনীত (নৌকা) প্রতিকের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জহিরুল ইসলাম মজুমদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থীকে পরাজিত করে জহিরুল ইসলাম মজুমদার বিপুল ভোটের ব্যবধানে এ বিজয় অর্জন করেন। উল্লেখ্য, হলফনামা ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মো: জহিরুল ইসলাম মজুমদার ১৯৮৮ সালের ১২ ই মার্চ শাহরাস্তি উপজেলার মেহার উত্তর ইউনিয়নের বানিয়াচোঁ মজুমদার বাড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মো: খোরশেদ আলম, মাতার নাম: সাদিয়া বেগম। জহিরুল ইসলাম মজুমদার ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি ব্যাক্তি জীবনে ৩ পুত্র সন্তানের জনক। জহিরুল ইসলাম মজুমদার দীর্ঘ ৫ বৎসর যাবৎ অবহেলিত মেহের উত্তর ইউনিয়ন বাসীর কল্যানে একজন নিবেদিত প্রান সমাজসেবক হিসেবে কাজ করেছেন।

Model Hospital

করোনাকালীন সময়ে ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামে জনগনের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামে রাস্তাঘাট, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহন ছিল প্রসংশার দাবিদার।

এ বিষয়ে নব নির্বাচিত মেহের উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জহিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ইউনিয়ন বাসীর সার্বিক ও আন্তরিক ভালোবাসায় আজকের এ অবস্থান পর্যন্ত আসতে পেরেছি। ইউনিয়নবাসী যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন সবাইকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক, উন্নত ও মডেল ইউনিয়ন গঠনে ইউনিয়নবাসী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’