শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে উপজেলা নির্বাচনে আনারস মার্কার কর্মীদের উপর হামলা ও মারধর

মতলব উত্তর ব্যুরো প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪, ৮:৫৮ পিএম
মতলব উত্তরে উপজেলা নির্বাচনে আনারস মার্কার কর্মীদের উপর হামলা ও মারধর

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কার প্রার্থী গাজী মুক্তার হোসেনের কর্মীদের উপর হামলা মারধর ও জিম্মি করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ মানিকের কর্মী ৬নং কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ছোবাহান সরকার শুভা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেছেন হাজী মুক্তার হোসেন। তিনি ২৪ এপ্রিল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্ণিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেসেন দপ্তরে এ অভিযোগ করেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কার প্রার্থী গাজী মুক্তার হোসেনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আনারস প্রতিক পাওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারনায় নিয়োজিত কর্মী রাকিব, ছায়েম, মিলন, হাছান, ছিটু, সুমন, শাকিব, রফিক, হোসেন, নাফিজ, ফরহাদসহ ২০-২৫জন নির্বাচনী প্রচারনা কাজ শেষ করে বাড়ী ফেরার পথে সন্ধ্যায় দশানী বেরিবাঁধে অবস্থিত ঘোড়া মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ মানিক এর কর্মী ৬নং কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ছোবহান (মোঃ ছোবহান সরকার সুভা) তার অফিসের সামনে গেলে, আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা ছোবহান সরকার সুভাসহ আরো ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসীরা বাঁশের লাঠি, কাঠের রুয়া ও লাঠিসোটা নিয়া আক্রমন করে এলোপাথারি পিটাইয়া আনারসের কর্মীদের জখম করে এবং কয়েকজন কর্মীকে তাহার অফিসে জিম্মি করিয়া রাখে এবং অনেক কর্মী আহত অবস্থায় বর্তমানে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

Model Hospital

সোবহান সরকার রাতেই তাদেরকে মারধর করে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের পুলিশে সোপর্দ করে।

বুধবার আটককৃত কর্মীদের থানা থেকে মোচলেখা দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয় বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপার গাজী মুক্তার হোসেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন অফিসার, চাঁদপুর ও রিটার্নিং অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, প্রেসক্লাব বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

গাজী মুক্তার হোসেন বলেন, আমার নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় বাঁধা দেয়া ও আমার কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’