বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি টাকায় সাবেক মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির বাবার নামে সেতু

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:৪০ পিএম
সরকারি টাকায় সাবেক মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির বাবার নামে সেতু

জনগণের করের টাকায় সেতু নির্মাণ করা হলেও ক্ষমতা আর প্রভাব প্রতিপত্তির জোরে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি সেতুর নাম দিয়েছেন তার বাবার নামে ‘ভাষাবিদ এম এ ওয়াদুদ সেতু’। সেতু বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কাগজপত্রে এ নামের অস্তিত্ব না থাকলেও দীপু মনি ভিত্তিফলকে তার বাবার নাম জুড়ে দেন। এ ঘটনায় ডাকাতিয়া নদীর দুপাড়ের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সুযোগ পায়নি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ছোটসুন্দর ও পাশের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর ২৫৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণে সবমিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। আর এটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।

নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের জুন মাসে সেতুটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। যদিও অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি।

সেতু বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ চাঁদপুর অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৪৬ টাকায় সেতু নির্মাণে ‘নবারুন ট্রেডার্স লি:’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশসহ সরকারি সকল কাগজে সেতুর আলাদা কোন নাম দেয়া হয়নি। সাবজেক্ট হিসেবে লেখা রয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন মহামায়া জিসি রামপুর ইউপি-ছোট সুন্দর বাজার-কামরাঙ্গা বাজার-বাকিলা জিসি সড়কে ডাকাতিয়া নদীর উপর ২৭৪.২০মিটার ব্রিজ।

Model Hospital

তৎকালীন চাঁদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য দীপু মনি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক ভূঁইয়া যৌথভাবে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড় অর্থাৎ ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে ভিত্তি ফলক উন্মোচন করা হয়। ওই সময় দীপু মনি তার প্রয়াত বাবার নামে (ভাষাবির এম এ ওয়াদুদ সেতু) এ সেতুর নামকরণের কথা বলেন।

দুপাড়ের অ্যাপ্রোচ সড়কসহ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। জনগণের করের টাকায় সেতু নির্মাণ করা হলেও দীপু মনি সকল অনুষ্ঠানে এবং সেতুর ভিত্তি ফলকে তার বাবার নাম জুড়ে দেন। স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়ায় ‘ভাসাবির এম এ ওয়াদুদ সেতু’ নাম দিয়ে প্রচারণা করান। এ ঘটনায় ছোটসুন্দর ও ইসলামপুর গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও তারা হয়রানীর ভয়ে প্রতিবাদ করেননি। যদিও লোকমুখে ইসলামপুর ব্রিজ হিসাবেই সমধিক পরিচিত।

চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, কাগজপত্রে ‘ভাসাবির এম এ ওয়াদুদ সেতু’ নামে কোন প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা এরকম কোন নির্দেশনা পাইনি।

চাঁদপুরের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন, মন্ত্রীরা শপথ নেন এই বলে ‘তাঁরা অনুরাগ অথবা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো কাজ করবেন না।’ দীপু মনি নিজের বাবার নামে সেতুর নামকরণের মাধ্যমে শপথের বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা কোনক্রমেই কাম্য নয়।

চাঁদপুর ডাকাতিয়া নদী বিভাজন করেছে সদর উপজেলার ছোটসুন্দর ও ফরিদগঞ্জের ইসলামপুরকে। শুধু এই দুটি এলাকা নয়, আশপাশের অন্তত আরও ২০টি গ্রামকে। ফলে নদী পেরিয়ে দুপাড়ে যাতায়াতে দুর্ভোগের কমতি ছিল না। খেয়া পার হতে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু সেতু চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ ক্রমশ দূর হচ্ছে।

সেতুটি পুরোদমে চালু হলে ডাকাতিয়া নদীর দুপাড়ের মানুষের শুধু দুর্ভোগই কমবে না, এর সঙ্গে পাশের জেলা লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়কপথের দূরত্বও কমে আসবে। এমন মন্তব্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital