সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

দেড় বছর আগের যুবক হত্যা রহস্য উন্মোচন, আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ৮:২৮ পিএম
দেড় বছর আগের যুবক হত্যা রহস্য উন্মোচন, আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দেড় বছর আগে সংঘটিত এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত নুরুল আলম রনিকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রংমালা বাজার এলাকার সফিকুল আলম বাহারের ছেলে।

শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিমল কর্মকার।

পুলিশ জানায়, নিহত মো. শরীফ (২৫) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাফর আহম্মেদ ওরফে মিয়া মিস্ত্রির ছেলে। স্থানীয় রংমালা বাজারে মানুষের সহযোগিতায় চলতেন এবং প্রায়ই অভিযুক্ত রনির সঙ্গে চলাফেরা করতেন।

২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি সিগারেটকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি। রনি টাকা না থাকায় শরীফ তাকে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে রনি বাড়ি থেকে টাকা এনে নিজেই সিগারেট কিনে নেয় এবং বাজারের পাশে বসে ধূমপান করতে থাকেন।

Model Hospital

একপর্যায়ে শরীফ সেখানে গেলে পুনরায় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রনি তাকে রংমালা দারুল উলুম মাদরাসার পেছনে নিয়ে মারধর করেন। শরীফ অচেতন হয়ে পড়লে রনি তাকে লতাপাতার নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। সাত দিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন এবং ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর রনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে।

মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রগতি হয় এবং অবশেষে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। আদালতে হাজির করলে রনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বিমল কর্মকার জানান, “দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পেয়েছে।”

শাহরাস্তিতে ইউএনওর অভিযান: চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা!

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
শাহরাস্তিতে ইউএনওর অভিযান: চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা!

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির এক প্র্যাকটিশনারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় অপর একটি মেডিকেল সেন্টারের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে অভিযান চালিয়ে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির একজন প্র্যাকটিশনারকে মূলধারার চিকিৎসাপদ্ধতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় অবস্থিত অ্যাপোলো মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

Model Hospital

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।