ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঢোলকলমি গাছ!

মো: রাছেল : কালের বিবর্তনে ঢোল কলমি বা বেড়াগাছ যেন বিলুপ্তির পথে। ঢোল কলমি গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেকটি অঞ্চলেই একটি পরিচিত নাম। তবে কালের বিবর্তনে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় সাদা ও বেগুনি রঙের পাপড়ি জড়ানো দৃষ্টিনন্দন একটি ফুলের নাম ঢোল কলমি। অঞ্চলভেদে অনেকের কাছে এ ফুলগাছটি বেড়ালতা বা বেড়াগাছ বা ঢোলকলমি নামে পরিচিত।

Model Hospital

পাঁচটি পাপড়ির মেলবন্ধনে ফুটে ওঠা এর ফুল আর ৮-১০ ফুট লম্বা ঢোল কলমি গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে। প্রকৃতির শোভা বর্ধনে মেঠোপথের ধারে, বাড়ির আঙিনায়, মাঠের ধারে এ নিষ্প্রভ ফুল গাছটি তেমন আর চোখে পড়ে না। শৈশবের খেলার সঙ্গী ঢোলকলমির ডালে গড়া খেলার ঘর আর কনে সাজানো ফুলের বাহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

এদিকে কচুয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি এখন আর দেখা যায় না। মাত্র কয়েক বছর আগেও এ উপজেলার প্রায় প্রত্যেক এলাকায় রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিল সর্বত্রই চোখে পড়তো এ গাছ।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ঢোলকলমি এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। তবে অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি গাছের ফুল যেকোন বয়সি প্রকৃতি প্রেমিকের দৃষ্টি কাড়বে। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়।

উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়া বলেন, ঢোলকলমি একটি উপকারী গাছ। এ গাছ দিয়ে বেড়া তৈরি করা, রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে বড় উপকার হয় মাটি ক্ষয়রোধের কাজে।

দরিয়াহয়াপুর গ্রামের বৃদ্ধ সাদেকুর রহমান বলেন, ঢোলকলমি ফুল সারা বছরই ফোটে। এই ঢোল কলমির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে নানা কারণে এখন আর তেমন কলমি গাছ চোখে পড়ে না।

উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মো. মানিক হোসেন বলেন, ঢোলকলমির গাছ বাড়ির আঙ্গিনার পাড় ভাঙ্গা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অল্পদিনে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়। এখন আর কোথাও আগের মতো ঢোলকলমির গাছ চোখে পড়ে না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বেড়ালতা হিসেবে পরিচিত এই ঢোল কলমি। এই ঢোলকলমি খালপাড়ের মাটিকে শক্ত করে রাখা,ভূমিক্ষয় রোধ,ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। প্রান ও প্রকৃতি সুরক্ষায় মূল্যবান উদ্ভিদকে সংরক্ষনের ও সম্প্রসারনের জন্য সকলের উদ্যোগ গ্রহন করা উচিত।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঢোলকলমি গাছ!

আপডেট সময় : ০১:১৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মো: রাছেল : কালের বিবর্তনে ঢোল কলমি বা বেড়াগাছ যেন বিলুপ্তির পথে। ঢোল কলমি গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেকটি অঞ্চলেই একটি পরিচিত নাম। তবে কালের বিবর্তনে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় সাদা ও বেগুনি রঙের পাপড়ি জড়ানো দৃষ্টিনন্দন একটি ফুলের নাম ঢোল কলমি। অঞ্চলভেদে অনেকের কাছে এ ফুলগাছটি বেড়ালতা বা বেড়াগাছ বা ঢোলকলমি নামে পরিচিত।

Model Hospital

পাঁচটি পাপড়ির মেলবন্ধনে ফুটে ওঠা এর ফুল আর ৮-১০ ফুট লম্বা ঢোল কলমি গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে। প্রকৃতির শোভা বর্ধনে মেঠোপথের ধারে, বাড়ির আঙিনায়, মাঠের ধারে এ নিষ্প্রভ ফুল গাছটি তেমন আর চোখে পড়ে না। শৈশবের খেলার সঙ্গী ঢোলকলমির ডালে গড়া খেলার ঘর আর কনে সাজানো ফুলের বাহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

এদিকে কচুয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি এখন আর দেখা যায় না। মাত্র কয়েক বছর আগেও এ উপজেলার প্রায় প্রত্যেক এলাকায় রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিল সর্বত্রই চোখে পড়তো এ গাছ।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ঢোলকলমি এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। তবে অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি গাছের ফুল যেকোন বয়সি প্রকৃতি প্রেমিকের দৃষ্টি কাড়বে। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়।

উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়া বলেন, ঢোলকলমি একটি উপকারী গাছ। এ গাছ দিয়ে বেড়া তৈরি করা, রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে বড় উপকার হয় মাটি ক্ষয়রোধের কাজে।

দরিয়াহয়াপুর গ্রামের বৃদ্ধ সাদেকুর রহমান বলেন, ঢোলকলমি ফুল সারা বছরই ফোটে। এই ঢোল কলমির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে নানা কারণে এখন আর তেমন কলমি গাছ চোখে পড়ে না।

উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মো. মানিক হোসেন বলেন, ঢোলকলমির গাছ বাড়ির আঙ্গিনার পাড় ভাঙ্গা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অল্পদিনে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়। এখন আর কোথাও আগের মতো ঢোলকলমির গাছ চোখে পড়ে না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বেড়ালতা হিসেবে পরিচিত এই ঢোল কলমি। এই ঢোলকলমি খালপাড়ের মাটিকে শক্ত করে রাখা,ভূমিক্ষয় রোধ,ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। প্রান ও প্রকৃতি সুরক্ষায় মূল্যবান উদ্ভিদকে সংরক্ষনের ও সম্প্রসারনের জন্য সকলের উদ্যোগ গ্রহন করা উচিত।