শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না"- এমন কথা বলায়

আইনমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
আইনমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারী

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, তরুণ প্রজন্মের আইডল, নর্থ আমেরিকার মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ড. আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম বাবর আজহারী বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কোরআনকে প্রশ্নের মুখোমুখি করায় তীব্র প্রতিবাদ করে মন্ত্রীকে এ নিয়ে ডিবেটে বসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। শায়খ বাবর আজহারী এর জন্য আইনমন্ত্রীকে তওবা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রীকে তিন ঘণ্টার ইংরেজিতে ডিবেটের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, স্যার, বিটিভিসহ অপরাপর চ্যানেলে  আপনাকে তিন ঘণ্টার ইংরেজিতে ডিবেটের আহ্বান জানাচ্ছি। আপনি ইংরেজিতে বলবেন, আর উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে এই গরিব আপনার সাথে বসবো। দেখি আপনার দৌড় কতটুকুন, আর কোরআনের জোর কতটুকু।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন- “কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না। কারণ কোনো ভার্স আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না”। আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ করে আইনমন্ত্রীকে এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শায়খ ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারী। তিনি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) রাতে হাজীগঞ্জ ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফে ৩৮তম ওরছে ইমামে রাব্বানী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে আইনমন্ত্রীকে এমন চ্যালেঞ্জ দেন।

এ বিষয়ে শায়খ বাবর আজহারীর হুবহু বক্তব্য হচ্ছে-
“সরকারে হোক, সরকারের বাইরে হোক, কেউ যদি আমার নবীর, আনীত কুরআনের কোনো হুকুম নিয়ে, কেউ যদি বলে— এটা বর্তমান সময়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তো আমি বলব, উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে এই গরিব, বাংলাদেশের বিটিভি খুলে দেওয়া হোক। তিন ঘণ্টার জন্য, স্যার আপনিও আসেন, উম্মতে মুসলিমা থেকে আমরাও থাকব। ইংরেজিতে ডিবেট হবে। আপনি আপনারটা ইংরেজিতে বলবেন, ‘দ্যাট কুরআনিক ল’ ইজ নট কম্প্যাটিবল অর অ্যাপ্লিকেবল টু দ্য মডার্ন ডে টাইম অ্যান্ড সিচুয়েশন’। আমি আপনাকে আমার নবীর উম্মতের পক্ষ থেকে বলছি— টিভি মিডিয়া খুলে দেওয়া হোক, আমরাও দেখি আপনার দৌড় কতটুকুন, আর কুরআনের জোর কতটুকুন! যেন ভবিষ্যতে এই কথা বলতে কেউ সাহস না করে। স্যার, আপনার জন্য বলছি…
আপনি লেখাপড়া এখনো শুরুই করেন নাই! লন্ডনের মধ্যে, লন্ডন কলেজের ১০০ বছরপূর্তি হচ্ছে। ফ্রান্সের বিখ্যাত আইনবিদ— এই মুহূর্তে ভদ্রলোকের নাম আমার মনে পড়ছে না, আল্লাহ রহমত করলে মনে পড়বে, পড়লে বলে দেব। সেই ভদ্রলোক এসেছেন, তিন দিনের বক্তব্য।

প্রথম দিনের বক্তব্যে বলছে, ‘মুসলমানরা আইনের ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছে, পৃথিবীবাসী তাদের এই অবদানের জন্য তাদের প্রতি কিয়ামত পর্যন্ত, অর্থাৎ বছরের পর বছর গ্রেটফুল থাকবে।’ ফ্রান্সের বিখ্যাত আইনবিদ এটা বলেছেন।

Model Hospital

পৃথিবী আন্তর্জাতিক আইন চিনতই না। মুসলমানদের ইমাম, ইমামে আজম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ  আন্তর্জাতিক আইন চিনিয়েছেন। আপনি আইনের বই নিয়ে আসেন! আমাদের উম্মতের পক্ষ থেকে আমরা গরিব থাকব, আমি দেখাব আপনাকে— মুসলমানরা আইনে কন্ট্রিবিউট বেশি করেছে, নাকি কনভেনশনাল সোসাইটি বেশি করেছে।

বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, পড়েন। স্যার, আইনের অতো পৃষ্ঠাও হবে না আপনাদের লিখিত যাহা আপনারা পড়েছেন, যত পৃষ্ঠা আমার নবীর উম্মতের এক গোলাম— ‘কিতাবুল মাবসুত’, গর্তে বসে, জেলে বন্দি, গর্তে বসে বলেছে, ছাত্ররা উপরে বসে লিখেছে। সেটা ‘কিতাবুল মাবসুত’ হয়েছে। আমার কাছে সেই কিতাবের ২৪ খণ্ড আছে।  আপনি বলছেন আইন কম্প্যাটিবল না! আপনি সেকুলার আইন আমেরিকা-ইংল্যান্ডে পড়েছেন, সেই কারণে এই পাশটা আপনার কাছে স্যার অন্ধকার থেকে গেছে।

আমি বলব আপনি অধ্যয়ন করেন, না হলে আমাদেরকে ডাকেন। আমরা আপনার মতো অতো বিজ্ঞ তো না, কিন্তু স্যার আপনি আমাদেরকে এতো কম মনে করলেও ভুল হবে! আমার নবীর উম্মতের ওলামা যতদিন থাকবে, যেই প্রান্তে থাকবে; দ্বীন, কুরআন, হাদিসের সাথে চ্যালেঞ্জ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না, চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয় দূর কি বাত, অক্সফোর্ড-হার্ভার্ডও এই সাহস কোনোদিন করবে না!
এখানে পারছেন, কারণ এগুলার বিরুদ্ধে কথা বললে চেয়ার শক্ত হয়ে যায়। যাই হোক, আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত করুক।

স্যারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যদি স্যার এই কথা বলে থাকেন, অনুরোধ করবো স্যার তওবা করে নিয়েন। তওবা না করলে আপনার জানাজা পড়ানোটা আমার মনে হচ্ছে… আমরা তো কাফের-মুসলিম বলতে পারবো না, এটা আমাদের দায়িত্বও না। এটা এই মাহফিলের দায়িত্ব না।

তবে তওবা করে ফেলাটা ভালো হবে। কারণ কুরআনকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের ঈমান, আপনার এবং আপনাদের ঈমান, সকলের ঈমানকে কে হেফাজত করুক। আমাদের সবাইকে আল্লাহ শুভবুদ্ধি দান করুক।”

এই ওরছে ইমামে রাব্বানী ও হিজবুর রাসুল সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন পীর সাহেব আওলাদে রাসুল আল্লামা সাইয়েদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-মাদানী। ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবায়ের, অধ্যক্ষ আল্লামা এসএম ফরিদ উদ্দিন, দরবার শরীফের খলিফা মাওলানা মোশারফ হোসেন হেলালী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দরবার শরীফের খলিফা মাওলানা মুফতি আবুল হাশেম শাহ মিয়াজী। বাদ আছর থেকে সারারাত ওয়াজ মাহফিল চলে। ফজর নামাজ শেষে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের পীর সাহেব। সারাদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও মুসল্লি এই ওরছে ইমামে রাব্বানী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।