কুরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না"- এমন কথা বলায়
আইনমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারী
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, তরুণ প্রজন্মের আইডল, নর্থ আমেরিকার মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ড. আল্লামা শায়খ সাইফুল আজম বাবর আজহারী বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কোরআনকে প্রশ্নের মুখোমুখি করায় তীব্র প্রতিবাদ করে মন্ত্রীকে এ নিয়ে ডিবেটে বসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। শায়খ বাবর আজহারী এর জন্য আইনমন্ত্রীকে তওবা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রীকে তিন ঘণ্টার ইংরেজিতে ডিবেটের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, স্যার, বিটিভিসহ অপরাপর চ্যানেলে আপনাকে তিন ঘণ্টার ইংরেজিতে ডিবেটের আহ্বান জানাচ্ছি। আপনি ইংরেজিতে বলবেন, আর উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে এই গরিব আপনার সাথে বসবো। দেখি আপনার দৌড় কতটুকুন, আর কোরআনের জোর কতটুকু।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন- “কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না। কারণ কোনো ভার্স আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না”। আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ করে আইনমন্ত্রীকে এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শায়খ ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারী। তিনি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) রাতে হাজীগঞ্জ ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফে ৩৮তম ওরছে ইমামে রাব্বানী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে আইনমন্ত্রীকে এমন চ্যালেঞ্জ দেন।

এ বিষয়ে শায়খ বাবর আজহারীর হুবহু বক্তব্য হচ্ছে-
“সরকারে হোক, সরকারের বাইরে হোক, কেউ যদি আমার নবীর, আনীত কুরআনের কোনো হুকুম নিয়ে, কেউ যদি বলে— এটা বর্তমান সময়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তো আমি বলব, উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে এই গরিব, বাংলাদেশের বিটিভি খুলে দেওয়া হোক। তিন ঘণ্টার জন্য, স্যার আপনিও আসেন, উম্মতে মুসলিমা থেকে আমরাও থাকব। ইংরেজিতে ডিবেট হবে। আপনি আপনারটা ইংরেজিতে বলবেন, ‘দ্যাট কুরআনিক ল’ ইজ নট কম্প্যাটিবল অর অ্যাপ্লিকেবল টু দ্য মডার্ন ডে টাইম অ্যান্ড সিচুয়েশন’। আমি আপনাকে আমার নবীর উম্মতের পক্ষ থেকে বলছি— টিভি মিডিয়া খুলে দেওয়া হোক, আমরাও দেখি আপনার দৌড় কতটুকুন, আর কুরআনের জোর কতটুকুন! যেন ভবিষ্যতে এই কথা বলতে কেউ সাহস না করে। স্যার, আপনার জন্য বলছি…
আপনি লেখাপড়া এখনো শুরুই করেন নাই! লন্ডনের মধ্যে, লন্ডন কলেজের ১০০ বছরপূর্তি হচ্ছে। ফ্রান্সের বিখ্যাত আইনবিদ— এই মুহূর্তে ভদ্রলোকের নাম আমার মনে পড়ছে না, আল্লাহ রহমত করলে মনে পড়বে, পড়লে বলে দেব। সেই ভদ্রলোক এসেছেন, তিন দিনের বক্তব্য।

প্রথম দিনের বক্তব্যে বলছে, ‘মুসলমানরা আইনের ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছে, পৃথিবীবাসী তাদের এই অবদানের জন্য তাদের প্রতি কিয়ামত পর্যন্ত, অর্থাৎ বছরের পর বছর গ্রেটফুল থাকবে।’ ফ্রান্সের বিখ্যাত আইনবিদ এটা বলেছেন।

পৃথিবী আন্তর্জাতিক আইন চিনতই না। মুসলমানদের ইমাম, ইমামে আজম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ আন্তর্জাতিক আইন চিনিয়েছেন। আপনি আইনের বই নিয়ে আসেন! আমাদের উম্মতের পক্ষ থেকে আমরা গরিব থাকব, আমি দেখাব আপনাকে— মুসলমানরা আইনে কন্ট্রিবিউট বেশি করেছে, নাকি কনভেনশনাল সোসাইটি বেশি করেছে।
বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, পড়েন। স্যার, আইনের অতো পৃষ্ঠাও হবে না আপনাদের লিখিত যাহা আপনারা পড়েছেন, যত পৃষ্ঠা আমার নবীর উম্মতের এক গোলাম— ‘কিতাবুল মাবসুত’, গর্তে বসে, জেলে বন্দি, গর্তে বসে বলেছে, ছাত্ররা উপরে বসে লিখেছে। সেটা ‘কিতাবুল মাবসুত’ হয়েছে। আমার কাছে সেই কিতাবের ২৪ খণ্ড আছে। আপনি বলছেন আইন কম্প্যাটিবল না! আপনি সেকুলার আইন আমেরিকা-ইংল্যান্ডে পড়েছেন, সেই কারণে এই পাশটা আপনার কাছে স্যার অন্ধকার থেকে গেছে।
আমি বলব আপনি অধ্যয়ন করেন, না হলে আমাদেরকে ডাকেন। আমরা আপনার মতো অতো বিজ্ঞ তো না, কিন্তু স্যার আপনি আমাদেরকে এতো কম মনে করলেও ভুল হবে! আমার নবীর উম্মতের ওলামা যতদিন থাকবে, যেই প্রান্তে থাকবে; দ্বীন, কুরআন, হাদিসের সাথে চ্যালেঞ্জ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না, চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয় দূর কি বাত, অক্সফোর্ড-হার্ভার্ডও এই সাহস কোনোদিন করবে না!
এখানে পারছেন, কারণ এগুলার বিরুদ্ধে কথা বললে চেয়ার শক্ত হয়ে যায়। যাই হোক, আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত করুক।
স্যারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যদি স্যার এই কথা বলে থাকেন, অনুরোধ করবো স্যার তওবা করে নিয়েন। তওবা না করলে আপনার জানাজা পড়ানোটা আমার মনে হচ্ছে… আমরা তো কাফের-মুসলিম বলতে পারবো না, এটা আমাদের দায়িত্বও না। এটা এই মাহফিলের দায়িত্ব না।
তবে তওবা করে ফেলাটা ভালো হবে। কারণ কুরআনকে প্রশ্নের সম্মুখীন করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের ঈমান, আপনার এবং আপনাদের ঈমান, সকলের ঈমানকে কে হেফাজত করুক। আমাদের সবাইকে আল্লাহ শুভবুদ্ধি দান করুক।”





