সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে এইচএসসি ও সমমানে চরম ফলাফল বিপর্যয়” ৮ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ মাত্র ৬ – ২৭ মাদ্রাসায় জিপিএ ফাইভ মাত্র ১৬

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ এম
ফরিদগঞ্জে এইচএসসি ও সমমানে চরম ফলাফল বিপর্যয়” ৮ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ মাত্র ৬ – ২৭ মাদ্রাসায় জিপিএ ফাইভ মাত্র ১৬
সদ্য প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার সাধারণ কলেজ শাখাগুলোতে শিক্ষার মানের চরম অবনতি ঘটেছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এইচএসসি ও সমমানে মাত্র ২৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে সাধারণ কলেজ থেকে মাত্র ৬ জন, বিএম (ভোকেশনাল) শাখা থেকে ৩ জন এবং আলিম পর্যায়ে ১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই প্রথমবার সাধারণ এইচএসসির চেয়ে আলিম পরীক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে।
উপজেলার ৮টি সাধারণ কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৬৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ৭০৯ জন। এতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৯১ শতাংশে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের তালিকায় দেখা যায়,
ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ৩৬২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৯৯ জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ২৭.৩৫%। গৃদকালিন্দিয়া হাজি হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে ৫৯৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২৯৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাসের হার ৪৯.৪৯%। গোল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজ থেকে ২২৯ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১০৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৪৭.১৭%। কালিরবাজার কলেজ থেকে ৭১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩২ জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৪৫.০৭%। চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ২৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১০৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাসের হার ৪০.৬৩%। চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৩০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩ জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ১০% (উপজেলায় সর্বনিম্ন)। শোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১০৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৬০ জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৫৫.৫৬%। লাউতলি ড. রশিদ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৯ জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ২১.৪৩%।
মাদ্রাসা (আলিম) এর তালিকায় দেখা যায়,
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আলিম পরীক্ষায় ৬৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪১২ জন পাস করেছে এবং ১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আলিমে পাসের হার ৬১.৯৬%।  ফরিদগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ৫০ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৪ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাসের হার ৮৮%। লতিফগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২১ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৫ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৭১.৪৩%। ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন পাস, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ১৩.৬৪%। রূপসা আহমদীয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৬ জন পাস, পাসের হার ৬৭.৫৭%। চান্দ্রা ছামাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৭ জন পাস, পাসের হার ৭০.৮৩%। গাজীপুর আহমদীয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৮ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৪৭.৩৭%। মানুরী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ১২ জন পাস, পাসের হার ৭০.৫৯%। বদরপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে ১২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৮ জন পাস, পাসের হার ৬৬.৬৭%। আলোনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৯ জন পাস, পাসের হার ৫২.৭৮%। হর্নি দুর্গাপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৭ জন পাস, পাসের হার ৩৮.৮৯%। পুরান রামপুর আব্দুর রব আলী মাদ্রাসা থেকে  ৩৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৯ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৮৭.৮৮%। লক্ষ্মীপুর কাসিমিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৩ জন পাস, পাসের হার ৮১.২৫%। রামদাসেরবাগ আলিম মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষা দিয়ে ১২ জন পাস, পাসের হার ৫৪.৫৫%। মাছিমপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯ জন পাস, পাসের হার ৫০%। রামপুর বাজার ডিএস ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষা দিয়ে মাত্র ১ জন পাস, পাসের হার ৪.৫৫% (মাদ্রাসা পর্যায়ে সর্বনিম্ন)।
কড়ৈতলী কে এ আলিম মাদ্রাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৯ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৮৩.৬৪%। কাওনিয়া হানাফিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬ জন পাস, পাসের হার ৮৯.৬৬%। কামতা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯ জন পাস, পাসের হার ৬৯.২৩%। ইসলামপুর শাহ ইয়াছিন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২১ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৫৩.৮৫%। পশ্চিম পোয়া আজিজিয়া ইসলামী আলিম মাদ্রাসা থেকে ১২ জন পরীক্ষা দিয়ে ২ জন পাস, পাসের হার ১৬.৬৭%। আলিনূর হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৮ জন পাস, পাসের হার ৩৮.০১%। সন্তোষপুর দারুচ্ছুন্নাত ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ৫ জন পাস, পাসের হার ৩৮.৪৬%। মুন্সিরহাট ইদ্রিসিয়া হাবিবিয়া ইসলামী আলিম মাদ্রাসা থেকে ৩৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩১ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাসের হার ৮৮.৫৭%। গোবিন্দপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১২ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাসের হার ৬০%। কাছিয়াড়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৬ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাসের হার ৬৬.৬৭%। ঘনিয়া ছাইদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ৩০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৭ জন পাস, পাসের হার ৫৬.৬৭%।
হাঁসা মাদ্রাসা থেকে ৩৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৩ জন পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাসের হার ৬৫.৭২%।
বিএম (ভোকেশনাল) শাখা থেকে এইচএসসি (বিএম) শাখায় ২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৫ জন। এই শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং পাসের হার ৮৫.৫৩ শতাংশ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলার সার্বিক ফলাফলের এই ধস এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাব নিয়ে গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি না বাড়লে আগামীতে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান ইউএনও মনিরা খাতুন

শাহরাস্তিতে যুব দিবসে ৬ যুবক পেলেন ১০ লাখ টাকার ঋণ, প্রশিক্ষণ সনদ ও পুরস্কার বিতরণ

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
শাহরাস্তিতে যুব দিবসে ৬ যুবক পেলেন ১০ লাখ টাকার ঋণ, প্রশিক্ষণ সনদ ও পুরস্কার বিতরণ
‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ সনদ, যুব ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, যুবসমাজ দেশের জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। যুবকদের জীবনের একটি পর্যায় শেষ হয়ে গেছে, এমনটি না ভেবে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে।তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে শুধু সনদ অর্জন করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
গবাদিপশু পালন, কাঁথা সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।ইউএনও আরও বলেন, নারীরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে আয়মূলক কাজে যুক্ত হলে পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। এতে সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি বয়স্ক মা-বাবার পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ঋণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে ছয়জন যুবক ও যুবার  মধ্যে মোট ১০ লাখ টাকার যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া পাঁচজনকে প্রশিক্ষণ সনদ, ২০ জনকে গাছের চারা, দুজনকে সফল সংগঠক হিসেবে ক্রেস্ট এবং একজনকে সফল খামারি হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলী, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন,উপজেলা  যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা লাভলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান পাটওয়ারী, উদ্যোক্তা গিয়াস উদ্দিন ও খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে, জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শাহরাস্তি যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি নেয়ামত উল্লাহ অভির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।