সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে আইইউজিআইপি’র সড়ক নির্মানে ড্রেজার দিয়ে কাদা-মাটি ভরাট

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে আইইউজিআইপি’র সড়ক নির্মানে ড্রেজার দিয়ে কাদা-মাটি ভরাট
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় আইইউজিআইপি’র (IUGIP) সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ভেঙে বালুর পরিবর্তে নদীর চর থেকে ড্রেজার দিয়ে কাদা-মাটি তুলে সড়কে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় চর থেকে মাটি বিক্রির জন্য প্রতি স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা দরে চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন এক যুবদল নেতা।
রোববার (১ নভেম্বর) শেষ বিকেলে পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে গিয়ে এই ঘটনা দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেরোয়া গ্রামের গজারিয়া চরে একটি অবৈধ ড্রেজার স্থাপন করা হয় এবং প্রায় ছয় শ ফুট পাইপ সংযোগ দেওয়া হয়। ড্রেজার চালুর মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের জন্য বক্স কাটিং করা জমিতে চর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে কাদা-মাটি ও পানি তোলা শুরু হয়। এর ফলে পুরো রাস্তা কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যায় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় হাজারো মানুষ। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে রাস্তা বন্ধ করে কাজ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাকিবুল হাসান দীপু হলেও মাঠপর্যায়ে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি পরিচালনা করছেন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোঃ শাহজাহান।
তবে ঠিকাদার রাকিবুল হাসান দাবি করেন, শাহজাহান নামে কাউকে তিনি চেনেন না।
এদিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর চর উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবদল নেতা আমিন মিজি মুঠোফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক আজাদ পাটোয়ারী।
এ সময় চর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু বা মাটি নেওয়ার জন্য রাস্তার সাব-ঠিকাদার শাহজাহানের সঙ্গে প্রতি স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা দরে চুক্তি হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চর কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানান, রাস্তাটি আইইউজিআইপি’র প্রকল্পের হলেও এর দেখভালের দায়িত্বে পৌর কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে চর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি বা কাদা এনে রাস্তার কাজে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান জানান, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কচুয়ায় বিয়ের ৫ মাসের মাথায় এক নববধুর পুত্র সন্তান প্রসব!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
কচুয়ায় বিয়ের ৫ মাসের মাথায় এক নববধুর পুত্র সন্তান প্রসব!

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বিয়ের মাত্র ৫ মাস ১দিনের মাথায় এক নববধূর পুত্র সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার শাসনপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিন প্রধানিয়া বাড়ির (চুইল্লাগো বাড়ি) এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শাসনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির হোসেনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণ উপজেলার আশ্বিনপুর উত্তর বৈদ্য সরকার বাড়ির সুখ মিয়া সরকারের ছেলে আশিকুর রহমানের সাথে ২০২৬ সালের ২২ মার্চ মধ্যরাতে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় । সুরাইয়া আক্তার বিয়ের আগে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এলাকার সুন্দুলপুরে একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করতেন। বিয়ের প্রায় ৫মাস ১দিন পর গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দাউদকান্দি-গৌরীপুর এলাকার দেশ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সুরাইয়া আক্তার। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে সামির হোসেন। বিয়ের সময়কাল ও সন্তান জন্মের সময়ের ব্যবধান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে সন্তান জন্মের পর প্রথম দিকে স্বামী আশিকুর রহমান সন্তানের খোঁজখবর নিলেও বর্তমানে মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজখবর না নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন রেখেছেন। ৫মাস ১দিনে একটি নবজাতক সন্তান কী কওে জন্ম হয়, এ নিয়ে আশিকের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে নানান কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে এবং এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

এ বিষয়ে সন্তানের মা সুরাইয়া আক্তার জানান, তার প্রচন্ড ডায়াবেটিস ছিল, যা তার স্বামী আশিকও জানতেন এবং মতলবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। ডায়াবেটিসের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই বলেও দাবি করেন।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, তার স্বামী তার শিশু সন্তানের পক্ষে রয়েছেন। তবে স্বামীর বোনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাকে স্বামী ও সন্তানের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সুরাইয়া আক্তারের স্বামী আশিকুর রহমান মুঠোফোনে তার এক চাচার সাথে কথোপকোথনে ৫ মাসে কীভাবে সন্তান জন্ম হওয়া দাবি করে বিষয়টি সমাধান চেয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।