বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের উপর হামলায় গুরুত্বর আহত ৪ : থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৪:৫৪ পিএম
মতলব উত্তর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের উপর হামলায় গুরুত্বর আহত ৪ : থানায় মামলা

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামের সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহিদ উল্লা মাষ্টার (৭০) ও তার পরিবারের উপর হামলা করা হয়েছে। হামলার পরিপেক্ষিতে শহিদ উল্লা মাষ্টার বাদি হয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১১, তারিখ-১৫ এপ্রিল ২০২২খ্রি.। মামলায় প্রতিবেশি সাজেদুল ইসলাম (২৫) কে প্রধান আসামী করে ৫জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো অজ্ঞাতনামা ৩-৪জনের নামে এজাহার দায়ের করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক শহিদ উল্লা মাষ্টারের প্রতিবেশি ফাজিল উদ্দিনের সাথে জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। ১৪ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক শহিদ উল্লা মাষ্টারের নিজ বাড়ির প্রতিবেশি ফাজিল উদ্দিন ও তার ছেলে সাজেদুল ইসলাম (২৫), শিশির (২২), স্ত্রী নারগিছ বেগম (৪৫), আফিজ উদ্দিন (৫২)সহ অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিরা জায়গা জমি সংক্রান্তে পূর্ব বিরোধের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে লাঠি, সোটা, দা, ছেনা, লোহার রড ইত্যাদি দেশিয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের সহযোগী অজ্ঞাত নামা ৩/৪জনকে সাথে নিয়া বে-আইনী জনতাবন্ধে অনধিকারে বাড়ীর আঙ্গীনায় এসে প্রায় ১৫-১৬টি বিভিন্ন প্রজাতের প্রায় ৫ বৎসর বয়সী গাছ গাছড়া কেটে ফেলে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

প্রতিবাদ করলে সকল আসামীরা শহীদ উল্লাহ মাষ্টারের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আরিফ হোসেন (২৫) ও তানিয়া আক্তার (২৫)সহ আরো ২জন গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

শহিদ উল্লাহ মাষ্টার বলেন, আমি প্রতিদিনের ন্যায় দোকানে যাই। বাড়িতে ডাক-চিৎকার শোনে গিয়ে দেখি আমার বাড়ির বেড়া ভেঙ্গে গাছ-গাছরা কেটে ক্ষতি করতেছে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাঁধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দা, ছেনা নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।

Model Hospital

ফাজিল উদ্দিনের স্ত্রী নারগিছ বেগম বলেন, বিরোধীয় জমিতে তারা ঘর তোলার চেষ্টা করে, আমরা বাঁধা দেই। শহীদ উল্লা মাষ্টার’সহ পরিবারের লোকজন আমাদের উপর আক্রমন করলে আমরা প্রতিহত করি।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা নেয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।