বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নানা সমস্যায় আক্রান্ত হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২, ২:০৫ পিএম
নানা সমস্যায় আক্রান্ত হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ৩১ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালটির জরাজীর্ণ অবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজের ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে শিশুসহ সাধারণ রোগীরা। নেই কোনো প্রকার ডিজিটাল চিকিৎসা সেবার সরঞ্জাম। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় চিকিৎসা নিতে হয় ফ্লোরে। একদিকে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ অন্যদিকে হাসপাতালের ময়লার গন্ধে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে সুস্থ হতে এসে, অসুস্থই হয়ে যেতে হয় অনেকের। পরিবেশ কোনো তদারকি নেই হাসপাতাল কতৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি সেবার কক্ষ, ডাক্তার, রোগী, কর্মচারীর আবাসস্থল ও রুম গুলোর বর্তমানে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেককে ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষের উপরের টিন নষ্ট হওয়ায় তীব্র গরমে নাভিশ্বাস ফেলতে হচ্ছে ।  ময়লা আবর্জনা ড্রেনে পড়ে ভাগাড়ে পরিবেশে পরিণত হচ্ছে। টয়লেটের গুলোরও বেহাল অবস্থা। বেডের চাদরে  ময়লা – আবর্জনা লেগে থাকে । ফলে রোগীর সেবা নেওয়ার সামান্যতম পরিবেশ ও থাকেনা । পাশাপাশি ডাক্তারের সেবা নিতেও পোহাতে হয় দুর্ভোগ। রোগীদের ব্যবহৃত ঔষধের খোসা, খাবারের ময়লা যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বক্ষেত্রে।
৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ২৪ টি সিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ভবন সংকটে নার্সদের ডিউটি রুমের সামনেই সেবা দিতে হয়। ৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকেও পরিবেশের বেহাল দশা যেনো চোখেই পড়ে না  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কতৃপক্ষের। জরুরি বিভাগেও রোগীদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় বলে ভুক্তভূগীরা জানিয়েছেন।
এতে রোগীদের সাথে আসা সচেতন মানুষরা বলছেন, সরকারি স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতাল গুলোর উন্নতি হলেও এই উপজেলা কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবার মান আজও উন্নত হলো না। তাঁরা আরোও জানান, ভবনের কাজ যথারীতি চলবে। তাই বলে চিকিৎসা সেবা পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হবে এটা কোনো কাম্য নয় বলে জানান।
উপজেলার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, আমার ছেলের টাইফয়েড জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা পাবার জন্য হাসপাতালে আসি। এসে দেখি কোন সিট খালি নেই পরে ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সকল প্রকার চিকিৎসা সামগ্রী বাহির থেকে কিনে আনতে হলো। চিকিৎসা শুরু হলে সুঁই-স্যলাইন সহ সব ফার্মেসী হতে সংগ্রহ করেছি।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আবদুর রহিম জানান, আমি বুকের ব্যথা ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানে এসে নার্স ও ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা কিছুটা ভালো পেলেও হাসপাতালের পরিবেশ দেখে খুবই খারাপ লাগলো। খাবার, সিট, টয়লেটের পরিবেশ খুবই খারাপ। যাবতীয় চিকিৎসার সকল কিছুই ফার্মেসী থেকে কিনে আনতে হয় আমাদের। সুস্থ হওয়ার চেয়ে এখানে অসুস্থ্যতার পরিবেশ বেশি দেখছি।
এ বিষয়ে উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, আমাদের জনবল সংকট এবং পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় কিছুটা বিগ্ন ঘটে। চিকিৎসা সেবার সরঞ্জাম রাখার পর্যাপ্ত রুম নেই। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট রয়েছে। আমরা রোগী সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসা  যতোটুকু প্রয়োজন তা দিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালের  ময়লা আবর্জনা, গোসল খানা, টয়লেট, ড্রেন পরিস্কার রাখার জন্য সবসময় কর্মীদের বলে থাকি। নবনির্মিত ভবন গুলো দ্রুত হস্তান্তর করা হলে, অচিরেই এই সংকট থেকে দূর হওয়া যাবে বলে আশাবাদী। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের আস্বস্ত করেছেন যে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভবন গুলোর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital