ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি

রাফিউ হাসান হামজা : বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ভঙ্গ করে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করা হচ্ছে। প্রকৃতির প্রাণ এসব পাখি অবাধে শিকার ও বিক্রি করলেও চোখে পড়ার মতো প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। পেশাদার পাখি শিকারিদের পাতা ফাঁদে প্রাণ হারাচ্ছে প্রকৃতির প্রাণ এসব পাখি। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার খাল-বিল, নদীতে অবাধে চলছে পাখি শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক নজরদারি এবং সচেতনতার অভাবে বাড়ছে পাখি শিকার। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
সামান্য মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে পাখি নিধনে মত্ত হয়ে ওঠে। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। কোনোভাবে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়না। ৫ ’শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্তও অনায়াসে এসব পাখি বিক্রি হয়ে যায়। বে-আইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।
এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচা-কেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এক ধরনের অসাধু ব্যক্তি মুনাফার আশায় আইনকে উপেক্ষা করে এসব কাজ করে চলেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এসব আইন থাকলেও কার্যকর খুব কম দেখা যায়। তাই অতিথি পাখি শিকার রোধে প্রচলিত আইন জোরদার করা জরুরি। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকেও তৎপর থাকতে হবে।
বন্যপ্রাণী গবেষক ডা. নজরুল ইসলাম  বলেন, পাখি বা বন্যপ্রাণী শিকার যে অপরাধ এটি আমাদের দেশের অনেকে জানেই না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বন বিভাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি চালাতে হবে। জনগণকে জানানোর জন্য এসব এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি ফলাও করে প্রচারও করতে হবে।।পাখি কমে গেলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে, পোকামাকড়-পঙ্গপাল ও রোগব্যাধি বাড়বে বলে জানিয়ে নিজেদের স্বার্থে বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এ গবেষক।
ঠাকুরবাজারে সাপ্তাহিক বাজারে আসা পাখি বিক্রেতারা জানান, খাল ও বিলে এসব পাখি শিকারীদের জালে ধরা পড়ছে। তিনি সেই শিকারিদের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করছেন। পাখি শিকার ও বিক্রি এটা যে দন্ডনীয় অপরাধ, তাও তিনি জানেন, তবে জীবিকার প্রয়োজনেই বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন বলে দাবি করেন।
পাখি শিকার রোধের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া সরকারিভাবে পরিবহন সুবিধাও নেই। তারপরও পাখি শিকার বন্ধে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাব চাঁদপুরের আয়োজনে বাজার পরিস্থিতি ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মত বিনিময় সভা

শাহরাস্তিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুন ২০২২
রাফিউ হাসান হামজা : বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ভঙ্গ করে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করা হচ্ছে। প্রকৃতির প্রাণ এসব পাখি অবাধে শিকার ও বিক্রি করলেও চোখে পড়ার মতো প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। পেশাদার পাখি শিকারিদের পাতা ফাঁদে প্রাণ হারাচ্ছে প্রকৃতির প্রাণ এসব পাখি। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার খাল-বিল, নদীতে অবাধে চলছে পাখি শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক নজরদারি এবং সচেতনতার অভাবে বাড়ছে পাখি শিকার। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
সামান্য মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে পাখি নিধনে মত্ত হয়ে ওঠে। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। কোনোভাবে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়না। ৫ ’শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্তও অনায়াসে এসব পাখি বিক্রি হয়ে যায়। বে-আইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।
এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচা-কেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এক ধরনের অসাধু ব্যক্তি মুনাফার আশায় আইনকে উপেক্ষা করে এসব কাজ করে চলেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এসব আইন থাকলেও কার্যকর খুব কম দেখা যায়। তাই অতিথি পাখি শিকার রোধে প্রচলিত আইন জোরদার করা জরুরি। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকেও তৎপর থাকতে হবে।
বন্যপ্রাণী গবেষক ডা. নজরুল ইসলাম  বলেন, পাখি বা বন্যপ্রাণী শিকার যে অপরাধ এটি আমাদের দেশের অনেকে জানেই না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বন বিভাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি চালাতে হবে। জনগণকে জানানোর জন্য এসব এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি ফলাও করে প্রচারও করতে হবে।।পাখি কমে গেলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে, পোকামাকড়-পঙ্গপাল ও রোগব্যাধি বাড়বে বলে জানিয়ে নিজেদের স্বার্থে বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এ গবেষক।
ঠাকুরবাজারে সাপ্তাহিক বাজারে আসা পাখি বিক্রেতারা জানান, খাল ও বিলে এসব পাখি শিকারীদের জালে ধরা পড়ছে। তিনি সেই শিকারিদের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করছেন। পাখি শিকার ও বিক্রি এটা যে দন্ডনীয় অপরাধ, তাও তিনি জানেন, তবে জীবিকার প্রয়োজনেই বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন বলে দাবি করেন।
পাখি শিকার রোধের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া সরকারিভাবে পরিবহন সুবিধাও নেই। তারপরও পাখি শিকার বন্ধে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।