শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষাবিদ এ.টি আহমেদ হোসাইন রুশদীর কাল ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২, ৪:৩৫ পিএম
শিক্ষাবিদ এ.টি আহমেদ হোসাইন রুশদীর কাল ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার কৃতি সন্তান শাহতলী নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বহু প্রতিষ্ঠানের রুপকার শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা এ টি আহমেদ হোসাইন রুশদীর আগামীকাল ২০জুন সোমবার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ।

তিনি ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকার হ্যালি ফ্যামেলি হাসপাতালের তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানা গেছে,দেশবরেণ্য এ শিক্ষাবিদের মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে কাল সোমবার সকাল ১০টায় শাহ্তলী জিলানী চিশ্তী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূিচ পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন খতম,মরহুমের কবর জিয়ারত, কলেজ মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিল, স্মরণসভা । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ও জিলানী চিশতী কলেজ গভনির্ং বডির চেয়ারম্যান সোহেল রুশদী । অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজন, স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন, শিক্ষকবৃন্দ,গভনির্ং বডি ,ম্যানেজিং কমিটি,সুধীজন,জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীগন উপস্থিত থাকবেন ।

জানা গেছে,মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী এজিবিতে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেছেন। শিক্ষা প্রসারে নিজের বহু অর্থ সম্পদ ও জমি দান করেছিলেন।

Model Hospital

তিনি শাহতলী কামিল মাদরাসা, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাহ্তলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাহ্তলী দাখিল মাদ্রাসা, ৩০নং মধ্য শাহ্তলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯নং উত্তর শাহ্তলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর শাহ্তলী যোবাইদা সরকারি (বালিকা) প্রাথমিক বিদ্যালয়, হামানকর্দ্দিতে শাহ্তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাপানিয়া রুশদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেনাপুর আগরজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেনগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লাকসাম উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার দক্ষিণ মুহসেন্দী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এছাড়াও শাহ্তলী অঞ্চলের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মসজিদসহ নানা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আন্তরিক সহযোগিতা করেন। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর জেলা ও বিভিন্ন স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে অবদান রেখেছেন। তার নিজের এলাকায় মানুষদের নিরক্ষর মুক্ত রাখার জন্য তিনি এ মহৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে তার ছিল অক্লান্ত, অফুরন্ত পরিশ্রম।

পরিশ্রম এবং সততা মানুষকে সৌভাগ্য এবং সফল করতে পারে তাই তিনিও জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়ে সফল হয়েছেন।
শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখায় ওইসময় সরকার তাকে গোল্ড মেডেল ও রুশদী উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য, মরহুম মাওলানা এ টি আহমেদ হোসাইন রুশদী দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সোহেল রুশদীর দাদা ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’